পটুয়াখালীর বাউফলে শিক্ষক নেতার বানিজ্য

পটুয়াখালীর বাউফলে শিক্ষক নেতার বানিজ্য
bodybanner 00
মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে এক শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষা বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৮ম ও ৯বম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ও ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষাধিক টাকা। প্রভাবশালী ওই শিক্ষক নেতার শিক্ষা বানিজ্যের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিবাকদের মধ্যে বিরাজ করছে অসন্তোষ। প্রভাবশালী ওই শিক্ষক নেতার নাম মো. মঞ্জুর মোর্শেদ। তিনি ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ম শ্রেণির নিন্ধন ফি (স্মারক নং বশিবো/জেএসসি (০২/২০১৮/২২৮৪ তারিখ১৫-২-২০১৮ইং) ৬০টাকা। ৯ম শ্রেণির জন্য নিন্ধন ফি (স্মারক নং-বশিবো/বিনি/২০১৮/০৩ (৬ষ্ঠ খন্ড) /২২৯৫ তারিখ ৫-৩-২০১৮ইং) ১৭৫ টাকা নেওয়া বিধান রয়েছে। কিন্তু উপজেলার ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষক নেতা মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ৮ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন নয়’শ টাকা করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ৮৩ জন ও ৯ম শ্রেণিতে ৭৫ শিক্ষার্থী রয়েছে। মোট ১৫৮জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। যার সিংহভাগ টাকা পকেটেস্থ করেছেন ওই শিক্ষক।
এ দিকে সরকারে বিধিনুযায়ী প্রতি বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক-বার্ষিক নামে দুইটি পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও ওই শিক্ষক নেতা তার বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) থেকে ত্রৈ মাসিক পরীক্ষা শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারী নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে প্রধান শিক্ষক বানিজ্য করার জন্যই তিনি ওই পরীক্ষা শুরু করেছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে, আনুসাঙ্গিক ফিসহ ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১ হাজার একশত ৮০ টাকা। সপ্তম শ্রেণির ১ হাজার চারশত ১০ টাকা। ১০ম শ্রেণির ১ হাজার চারশত ৫০ টাকা। উপবৃত্তি প্রাপ্ত মেধাবি অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও কেটে রাখা হচ্ছে টাকা। তবে তাদের বেলায় ফি কিছুটা কম।
ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষায় নেওয়া হয়েছে অভিনব পন্থা। পরীক্ষার সিলেবাস শেষ না হওয়ায় ৫০ নম্বরের হাতে করা ফটোকপি প্রশ্নপত্রে ইংরেজি বিষয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। এ পরীক্ষার ফি আদায়ে আছে রঙিন ও সাদা প্রবেশ পত্রের মতো আরো অভিনব কৌশল। সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের সাদা কাগজে হাতে লেখা প্রবেশ পত্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সাময়িক অনুমতি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শ্রেণি শিক্ষকদের। আর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে কেবল প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত রঙিন (ছাপানো অক্ষরের) প্রবেশ পত্র। কতিথ ত্রৈ মাসিক এই পরীক্ষা থেকেও আদায় হবে দুই লক্ষাধিক টাকা।
সকল অভিযোগ অস্বিকার করে প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ৮ম ও ৯ম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের নিন্ধন ফি সর্বচ্চ চারশত টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষাকে অস্বীকার করে তিনি বলেন, এটা পাঠ মূল্যায়ন। দুই একজন শিক্ষক এটাকে ভূলে ত্রৈ-মাসিক লিখতে পারে। তবে পরীক্ষার ফি এর সাথে আনুসঙ্গিক অন্যন্য চার্য রয়েছে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00