নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে এমপি সালমা ইসলামের উকিল নোটিশ

নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে এমপি সালমা ইসলামের উকিল নোটিশ
bodybanner 00

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির বিরুদ্ধে যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করা হয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার সাবেক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জিয়াউল হক নোটিশটি পাঠান। এতে মিথ্যা অভিযোগের জন্য তাকে (নাজমুল হুদা) ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলা করা হবে।

 

নোটিশে নাজমুল হুদাকে উদ্দেশ করে জিয়াউল হক বলেন, আপনি একজন আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা ও এক সময়ে সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন। আমার মক্কেল সালমা ইসলামও একজন আইনজীবী। শুধু আইনজীবীই নন, তিনি একজন সংসদ সদস্যও। আপনি বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেভাবে শত্র“তা দেখিয়েছেন, সংকীর্ণ মানসিকতার বশবর্তী হয়ে যে মিথ্যা, কুৎসামূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আপনি এলাকায় আর সেই অবস্থানে নেই।

কিন্তু আমার মক্কেল নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এলাকায় অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মানুষের সেবামূলক কাজ করেছেন। এলাকায় তিনি অনেক জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনের কথা ভেবে আপনি এবং আপনার চাচা (যিনি ‘জাতীয় দরবেশ’ হিসেবে পরিচিত) ভীত হয়ে পড়েছেন। তাই আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে অসঙ্গত, অপ্রাসঙ্গিক, বিশ্বাসঘাতী ও হাস্যকার অভিযোগ এনেছেন।

আপনার চাচা ও তার স্বার্থান্বেষী মহলকে খুশি করার জন্য এজাহারে আপনি স্পর্শকাতর বিষয়কে বেছে নিয়েছেন। বিষয়টির সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের মর্যাদা জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক এ প্রধান বিচারপতির লেখা বই প্রকাশ হওয়ার পর সরকারের সামনে আসা খারাপ সময়টিকে আপনি কাজে লাগিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়, চলতি বছর ৩০ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উলে­খ করে আপনি স্বীকার করেছেন যে, আপনার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়ের কপি পেয়েছেন, সেটি পেতে দেরিও হয়নি। সুতরাং অভিযোগের যে গল্প আপনি তৈরি করেছেন, তা অস্পষ্ট ও স্ববিরোধিতাপূর্র্ণ (২০ জুলাই ২০১৭ ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য, নিশ্চয়ই এসকে সিনহা তা মোকাবেলা করবেন)। কাজেই ওই রায় ও ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে (সালমা ইসলাম) জড়ানো দুর্ভাগ্যজনক।

জিয়াউল হক বলেন, আপনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু আপনারও জানার কথা আমার মক্কেলও একজন সংসদ সদস্য। তিনি একজন বড় শিল্পপতি ও সমাজকর্মী। দাতব্য ও সমাজসেবামূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন। এতকিছু আপনি কখনোই করেননি। সুতরাং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে হিংসা, আক্রোশ ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে আপনি সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে যা করেছেন, তা একেবারেই অনৈতিক।

জিয়াউল হক আরও বলেন, আপনি জানেন না, অনেক মামলার রায়ে এসকে সিনহা আমার মক্কেল সালমা ইসলাম ও তার কোম্পানির (যমুনা গ্র“প) প্রতি অবিচার করেছেন; যার কারণে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ আমার মক্কেল কখনই বিচারপতি সিনহার গুড বুকে ছিলেন না। তারপরও আপনি (নাজমুল হুদা) সেই ব্যক্তির (এসকে সিনহা) সঙ্গে আমার মক্কেলকে মেলাতে চেয়েছেন, যিনি (এসকে সিনহা) দেশে-বিদেশে বিতর্কিত। আশা করি এটা জানার পর আপনার শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত শিশুসুলভ অভিযোগ এজাহার থেকে প্রত্যাহার করে নেবেন।

নোটিশে আইনজীবী উলে­খ করেন, ‘একজন সম্মানিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ সব সময় অন্যের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করে, তিনি প্রতিপক্ষ হলেও। একজন রাজা সর্বদাই অন্য রাজাকে সম্মান করেন। একজন রানী অন্য রানীকে সম্মান করেন। তবে একজন চোর সর্বদা অন্যদের চোর ভাবে। ঘুষখোর সর্বদাই অন্য ঘুষখোরের গুড বুকে থাকে। সুতরাং আপনাকে (নাজমুল হুদা) আবার চিন্তা করে দেখতে হবে সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে কী সাংঘাতিক ভুল আপনি করেছেন। যথাযথ ফোরামে চ্যালেঞ্জ করা হলে আপনি কি আপনার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবেন? নিশ্চিত করে বলা যায়- পারবেন না। ব্যর্থ হবেন। সুতরাং আপনার মতো একজন বিজ্ঞ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের ফাঁদে পা দিয়েছেন।’

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00