ব্রেকিং নিউজঃ

‘নাচতে নেমে ঘোমটা টেনে লাভ নেই’

‘নাচতে নেমে ঘোমটা টেনে লাভ নেই’
bodybanner 00

ছক ভাঙতে বরাবরই ভালবাসেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। অভিনয় আর নিজের লুক নিয়ে তাঁকে এবার এক্সপেরিমেন্ট করতে দেখা যাবে সত্রাজিৎ সেনের ডেবিউ ছবি ‘মাইকেল’এ। এই ছবির অফার ও আমায় দেয়নি। বরং বলা যায়, আমিই ঠিক করে নিয়ে ওকে জানিয়েছি, কোন চরিত্রটা করব! বাপ্পা (সত্রাজিতের ডাকনাম) যখন থেকে ঠিক করেছিল যে ‘মাইকেল’ বানাবে, তবে থেকেই আমি জানতাম। মাঝে স্ক্রিপ্টটাকে অনেকবার ঘষামাজা করা হয়েছে, প্রত্যেকটাই আমি দেখেছি। অনেকগুলো নারীচরিত্র আছে ছবিটায়। ও আমাকে অন্য একটা চরিত্র সাজেস্ট করেছিল প্রথমে। আমি নিজেই সেটা পাল্টে নিয়েছিলাম!

স্বস্তিকা বলেন, নিজেকে রিপিট করতে চাইনি। এ রকম চরিত্র আগে করিনি আমি। প্রত্যেকটা ছবিতেই চেষ্টা করি নিজের লুক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে। এখানেও সেটাই করতে চেয়েছি। শিঞ্জিনী একজন ওয়ার্কিং ওম্যান। সংসারের জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই করতে হয় তাকে। কারণ তার স্বামী মাইকেল (যে চরিত্রে রয়েছেন মীর) সংসারের প্রতি দায়হীন, ছবিপাগল একটা মানুষ। একরাশ হতাশা নিয়ে সারাক্ষণ একতরফা ঝগড়া করে যায় শিঞ্জিনী। পুরো ছবিটা জুড়ে বোধহয় একবারও ভাল করে কথা বলিনি আমি!

কয়েকজন পরিচালক ছাড়া বেশিরভাগই আমায় জোরাল, স্বাধীনচেতা নারীচরিত্রে কাস্ট করেন। মদ-সিগারেট খায়, নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানাতে পারে, সিরিয়াস সব চরিত্র। ‘মাইকেল’এ একদম অন্য রকম একটা চরিত্র করতে পারব বলে খুশি হয়েছিলাম। চরিত্রটার মধ্যে হালকা কমিক এলিমেন্টও আছে। আর দেখলাম, প্রচুর সাজগোজ করতে পারব (হাসি)!
ছবিটায় আরও অনেক নায়িকা রয়েছেন। ইদানীং আপনাকে মাল্টিস্টারার ছবিতেই বেশি দেখা যাচ্ছে…।

মেনস্ট্রিম কমার্শিয়াল ছবি ছাড়া বেশিরভাগ ছবিতেই এখন নায়ক-নায়িকার সংজ্ঞা পাল্টে গিয়েছে। যে ধরনের ইন্টারেস্টিং গল্প নিয়ে এখন বাংলায় কিংবা অন্য রিজিওনাল ইন্ডাস্ট্রিতে ছবি হচ্ছে— সব জায়গাতেই অঁসম্বল কাস্ট। কারণ সেখানে গল্পটাই মুখ্য। তথাকথিত ‘খান ফিল্মস’ ছাড়া মুম্বইয়েও তাই হচ্ছে। কাজেই ছবিতে আর কতজন নায়িকা থাকল, সেটা নিয়ে আমি বিশেষ মাথা ঘামাই না। আমার চরিত্রটা যাতে মানুষের মনে থাকে, সে রকম কাজ করেই ছাড়ব। ‘টেক ওয়ান’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’— এই ছবিগুলোর পরিচালকরা সম্ভবত আমায় মাথায় রেখেই চরিত্রগুলো লিখেছিলেন। সম্প্রতি ‘আবার আসব ফিরে’ বলে অঞ্জনদার (দত্ত) যে ছবিটা করলাম, সেখানেও আমার চরিত্রটা মনে রাখার মতো।

স্বস্তিকা বলেন, অঞ্জনদাকে বলেছিলাম, ‘তোমার ছবি মানেই তো শুধু ব্যোমকেশে নাও আমাকে। এবার তার বাইরেও অন্য ছবি দাও’! অঞ্জনদা আর ব্যোমকেশ বানাবেন না। ওঁর পরের ছবি ‘আবার আসব ফিরে’তে এক ক্রিমিন্যাল লইয়ারের চরিত্র দিয়ে অঞ্জনদা বলেছিলেন, ‘এই চরিত্রটা তুই না করলে হবে না’। সত্যিই চরিত্রটা অন্য রকম।

প্রথমদিকে এক্কেবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম। আমার ধারণা ‘দুপুর ঠাকুরপো’ দেখে লোকজন খুব শক্‌ড হয়ে গিয়েছিল। বাংলায় এমন একটা সিরিজ হচ্ছে যাতে খোলাখুলি যৌনতা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, ঠাট্টা-ইয়ার্কি হচ্ছে—এটা বোধহয় মেনে নিতে একটু সময় লেগেছে দর্শকের। পুরুষের ফ্যান্টাসি এত প্রকটভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে সেটা হজম করতেও কষ্ট হয়েছে। তা-ও ওই সিরিজটাই সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম্‌ড হয়েছে! কারণ যা-ই হোক, মানুষ ‘দুপুর ঠাকুরপো’ দেখেছেন। আর সত্যি বলতে, আমাদের মর‌্যালিটি বজায় রাখার কোনও দায় ছিল না।

যতই আমরা সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করি, বাঙালিদের মাথার মধ্যে কিন্তু খুব জোরাল একটা সেন্সর বোর্ড বসানো রয়েছে। তাই আমরা সারাক্ষণ এত জাজমেন্টাল হয়ে যাই। আমি নেটফ্লিক্সের সঙ্গে এ দেশের ওয়েব চ্যানেলগুলোর তুলনা করব, ওদিকে ‘গেম অফ থ্রোন্‌স’এর এক শতাংশ স্কিন-শো এখানে হলে তুলোধোনা করব! ধরেই নেওয়া হবে, সেই অভিনেতা ব্যক্তিগত জীবনেও এরকম। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিছু বানাতে হলে নির্মাতাদের দশবার চিন্তা করতে হয় আগে যে, লোকে কী ভাববে, কীভাবে নেবে। মুম্বইয়ে নায়ক-নায়িকারা তো আরও ইমেজ-সচেতন। তাঁরা সাহসী দৃশ্য করার আগে দশবার ভাবেন। আমার মনে হয়, বাংলার অভিনেত্রীরা সেই দিক থেকে এগিয়ে।

দুপুর ঠাকুরপো’তে ভোজপুরি গানের সঙ্গে যখন কোমর দুলিয়েছিলাম, ফিডব্যাকের বন্যা বয়ে গিয়েছিল! সকলে আমায় জিগ্যেস করছিলেন, কী করে ও রকম চটুল গানের সঙ্গে নাচলাম! আমার বক্তব্য, একজন পারফর্মার হিসেবে ওই চ্যালেঞ্জটা কেন নেব না? কেন শুধু সিরিয়াস, সফিস্টিকেটেড চরিত্র করব? উমা বৌদির চরিত্রটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে করতে পেরেছি বলেই দর্শকের শকটা আরও জোরাল হয়েছে। আমি অঞ্জনদার ছবিও করব, আবার ‘দুপুর ঠাকুরপো’ও করব। বাংলার কোনও মূলধারার নায়িকা কখনও অজস্র গালাগালি দিয়েছেন বলে জানা নেই আমার। আমি কিন্তু সেই সাহসটা দেখিয়েছিলাম ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’এ। ইমেজের তোয়াক্কা না করেই।

ও সবক’টা এপিসোড দেখে বলেছে, ‘মা, ইউ গাইজ আর গ্রোয়িং আপ’! ওরা তো এখন টিভি দেখে না, ইন্টারনেটে সবকিছু দেখতে অভ্যস্ত। অর্ধেক জিনিস কেটেছেঁটে দেখানো হয় যেখানে, সেই মাধ্যমে ওরা স্বচ্ছন্দ নয়। ভোজপুরি নাচটা প্রথম দেখিয়েছিলাম বাবাকে। ওঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এটা কীভাবে করে ফেললি? কোমর তো হাতে খুলে চলে আসবে’! কোনওদিন এটা বলেননি, ‘এ মা, এটা কেন করলি!’ প্রথম থেকেই আমি পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি। আর নাচতে নেমে তো ঘোমটা টেনে লাভ নেই! মুম্বইয়ে বেশ কয়েকটা ছবির কথাবার্তা চলছে। সেগুলো পাকাপোক্ত হলে এ বছরই কাজ শুরু করব।

সূত্র- ‍এবেলা

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00