নওগাঁয় নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ব্যবসা জমজমাট

নওগাঁয় নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ব্যবসা জমজমাট
bodybanner 00

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁঃ-
বছরের শুরুতেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকার থেকে বই দেয়া হলেও জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এক শ্রেণীর শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রকাশনী কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে নোট, গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। এজন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বুক লিষ্ট’ নামে একটি বইয়ের তালিকা ও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে। আর হাতে পাওয়া বুক লিষ্ট নিয়ে বইয়ের দোকানে বই কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ইতি মধ্যেই বিভিন্ন প্রকাশনীর নোট, গাইড বইয়ে ছেয়ে গেছে বইয়ের দোকান লাইব্রেরী গুলো। আর এমন দৃশ্য নওগাঁ জেলা সদর শহর সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরের লাইব্রেরী পট্টিতে।
নওগাঁয় নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ব্যবসা জমজমাটআর এসব কারনে একই পরিবারে একাধিক ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করায় নোট, গাইড কিনাও সম্ভব হয়না দরিদ্র পরিবারের অনেকের। ফলে লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে পড়তে হয় এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের।এনসিটিবি’র অনুমোদন ব্যতিত পাঠ্য তালিকায় কোন বই ব্যবহার করা যাবেনা। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গাইড বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও নওগাঁর গাইড বই এর চলছে জমজমাট ব্যবসা।জেলার অন্যান্য উপজেলার ন্যায় মহাদেবপুর উপজেলায় ও চলছে এসব বইয়ের জমজমাট ব্যবসা । শহরের বাজার রোডে গড়ে ওঠা লাইব্রেরিতে এগুলো নিষিদ্ধ বই অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোন নজরদারি নেই বল্লেই চলে। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রেদওয়ানুর রহমান চৌধুরী জানান, আমার মেয়ে রসুলপুর উচ্ছ-বিদ্যালয়ের ৮ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি আরো জানান, রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নোট) গাইড বই কেনার জন্য আমার মেয়ের হাতে বুক লিষ্ট দিয়েছে এবং ইতিমধ্যেই আমি বুক লিষ্টে লিখে দেয়া মহাদেবপুর উপজেলা সদরের লাইব্রেরী থেকে গাইড বই কিনে নিয়েছি। তিনি আরো জানান, আমি শিক্ষকদের দেয়া বুক লিষ্ট দিয়ে বই কিনলেও এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবার বুক লিষ্ট অনুযায়ী বই কিনতে গিয়ে অর্থ অভাবে দিশেহারার মধ্যে পড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধনজইল ও সরস্বতীপুর এলাকার কয়েকজন অভিভাবক জানান, শূধু রসুলপুর নয় উপজেলার ধনজইল ও সরস্বতীপুর সহ প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিষিদ্ধ গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে তুলে দিয়েছে বুক লিষ্ট। আর একারনেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে মজার বিষয় হলো একেক বিদ্যালয় একেক লাইব্রেরী থেকে একেক প্রকাশনীর বই শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করার জন্য বুক লিষ্ট দেয়ার ঘটনাটি অভিভাবক মহলে প্রশ্ন সৃৃষ্টি করেছে বলেও অনেকেই জানিয়েছেন। মহাদেবপুর উপজেলা শহরের বেশিরভাগ লাইব্রেরী মালিকরা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই এবং এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজী ব্যাকরণ বিক্রি করছে। এসব লাইব্রেরীতে ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণীর সংসদ, জননী, অনুপম, জুপিটার, ফুলকুড়ী প্লাসসহ, বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই পাওয়া যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক সাংবাদিকদের জানান, মহাদেবপুর উপজেলার ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলে গঠন করা হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। সমিতিভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে অনুমোদনবিহীন গাইডবই, বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজী ব্যাকরণ বই পড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাঞ্চন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট লাইব্রেরী থেকে নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই ক্রয়ের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ময়নুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, পুঁথিনিলয় প্রকাশনির “সংসদ” গাইড বই ইসলামিয়া লাইব্রেরী থেকে ক্রয়ের জন্য ছাত্রীদের বলা হয়েছে। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। মহাদেবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানান, সমিতিতে গাইড বইয়ের ব্যাপারে কোন প্রকার আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বা এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তও নেয়া হয়নি।
মহাদেবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতাদের অনুমোদনবিহীন বই ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00