ব্রেকিং নিউজঃ

দোহারে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট প্রভাবশালীদের ইট বালু ব্যবসা

দোহারে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট প্রভাবশালীদের ইট বালু ব্যবসা
bodybanner 00

	 brand bazaar

আবুল হাশেম ফকির

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা ও ফরিদপুর জেলার চরভদ্রসন এই দুইটি পাড় নিয়ে অবস্থিত মৈনট ও চরভদ্রসন ঘাট। পদ্মার ভাঙন রক্ষায় নয়াবাড়ি ইউনিয়নে চলছে (পদ্মাবাঁধ প্রকল্প) বাঁধ দিয়ে এলাকা রক্ষার কাজ।

দোহারে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট প্রভাবশালীদের ইট বালু ব্যবসা

দোহারের বাকী অংশের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এদিকে মাহমুদপুর ইউনিয়নের পাড় ঘেসে গড়ে উঠেছে মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট কিন্ত সেখানে যমুনা ডিলাক্স (প্রাঃ)লিমিটেড এর স্ব- ঘোষিত বাসস্টান্ড ও ইটবালুর ব্যবসা করছেন প্রভাবশালীরা। এতে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনটঘাট।এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন শত শত ইট-বালুবোঝাই ট্রাক নদীর পাড় দিয়ে চলাচল করায় ধুলা-বালুতে পাশের ফসলি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সেই সাথে দর্শনার্থীরাও হচ্ছে হতাশ। সরেজমিন দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে এই ইট-বালুর ফিটনেস বিহীন ট্রাক, রোড পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার, তার উপড় হেলপার দিয়ে চালাচ্ছে এসব ট্রাক। এইভাবে ব্যবসা করছে প্রভাবশালীরা আফজাল শিকদার সেলিম খান গং।তাদের নিয়ন্ত্রণে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ ও চোরাই ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন, ফলে বিভিন্ন সময় এক্সিডেন্ট করে অকালে হারাচ্ছে অনেক প্রান। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে এসব গাড়ি চালনা বা পরিবহনের কারনে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। যার হাত থেকে বৃদ্ধ,শিক্ষার্থীও হেরায় পাচ্ছে না।যাদের কেউ কেউ অশিক্ষিত। জানা নেই কোন নিয়ম কানুন।স্থানীয়দের একটা দাবি দ্রুত এসব অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের ও অনিয়ন্ত্রিত গাড়ির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ময়লা হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের কাপড়-চোপড় এবং বিভিন্ন দোকানের মূল্যবান খাবারদাবার ধুলাবালুতে ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও বেড়াতে আসা পর্যটকরা। এ সময় আরও দেখা যায় যেখানে- সেখানে মালবোঝাই ট্রলার থামানো এবং ইট ফেলার কারণে দোহারের মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও যেখানে- সেখানে ইট-বালু রাখার কারণে বিরক্ত ও হতাশ হচ্ছেন। এমনকি ছুটির দিন ও বিশেষ দিন গুলোতে ইটবালুর ট্রাক,প্রতিযোগিতা দ্রুত মালামাল পৌঁছানো ও যমুনাবাস যত্রতত্র পার্কিং এর কারনে উপজেলা কার্তিকপুর হইতে মৈনটঘাট এক কিলোমিটার রাস্তায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ট্রাফিকজ্যাম নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, এখানে আসি বিনোদনের জন্য, এখানে আসার পর ইট- বালুর কারণে ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারছি না। ঢাকা থেকে আসা মাহমুদা খানম বলেন,বিনোদনের স্থানে ইট-বালু ব্যবসা মেনে নেওয়া যায় না। চোখেমুখে বালু আসে। দেখতে খুব খারাপ দেখায়।ঢাকার অদূরে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় একটি দর্শনীয় স্থান এটি।যা বর্তমানে মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিতি লাভ করেছে রাজধানীসহ সারাদেশে।কিন্তু এখানে প্রভাবশালীরা ইট-বালুর ব্যবসা করায় অনেক দর্শনার্থী ই আজকাল স্থানটি ভ্রমণে আসতে নারাজ।চোঁখ আর মুখে বালু গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে আসা যাওয়ায়। তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নজরে আনতে হবে। এ বিষয়ে ইট-বালু ব্যবসায়ী আফজাল শিকদার বলেন, আমরা নদীর পাড়ে অনেকদিন আগে থেকে ব্যবসা করেছি এবং এখনও করছি। তবে কোনো ক্ষতিসাধন করছি না। আরেক ইট-বালু ব্যবসায়ী সেলিম খান বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় করে যাচ্ছি। কারওকাছে অনুমতি নিইনি। বিকল্প ব্যবস্থা হলে আমরা আর এখানে ব্যবসা করব না। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. ইমরুল হাসান আগামীর সময়কে জানান, সরকারি সম্পত্তি কারও কারণে নষ্ট হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দোহার উপজেলানির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমীন বলেন, বিষয়টি আমারজানা ছিল না; তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00