দোহারে নববধু শিখার পরিবারে শোকের মাতম কাটেনি।

দোহারে নববধু শিখার পরিবারে শোকের মাতম কাটেনি।
bodybanner 00

 মাহবুবুর রহমান টিপু,দোহার(ঢাকা)প্রতিনিধি:

দোহার উপজেলার নববধু শিখা হত্যার পাচদিন অতিবাহিত হলেও শিখার পরিবারে এখনও শোকের মাতম চলছে।নিহত শিখা উপজেলার দোহার খালপাড় গ্রামের কুয়েত প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা দোহার খালপাড় নিহত শিখার বাবা সিরাজের বাড়িতে গেলে তার আত্বীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীকে চেহলাম ও দোয়া-মাহফিলে সরিক দেখা যায়।এ সময়ে সমকালের প্রতিবেদককে দেখে নিহত শিখার মা রুনু বেগম বার বার মূর্ছা যান।জ্ঞান ফিরলেই রুনু বেগম ও তার স্বামী সিরাজ মিয়া জানান,গত শুক্রবার তার বাড়িতে উপজেলার উত্তর জয়পাড়া মিয়াপাড়া কাজি বাড়ি মাঠ সংলগ্ন আনোয়ার হোসেনের ছেলে রুহুল আমিনের সাথে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।এ সময়ে তারা মেয়েকে উপহার সরুপ সেগুন কাঠের তৈরী বক্স খাট,ড্রেসিং ও ডাইনিং টেবিল,কাঠের শোকেস,আলমারিয়া,সোপাসেট ও প্রায় দশ ভরি ওজনের সোনার বিভিন্ন অলংকার দেন মেয়ের সাথে।একদিন পর জামাই রুহুল আমিন ও মেয়ে শিখা বিয়ে বাড়িতে প্রথা অনুযায়ী বাবার বাড়িতে আসে।এ সময়ে জামাই রুহুল আমিনকে মনমরা অবস্থায় দেখতে পাওয়ায় রুনু বেগম জানতে চাইলে বলে শিখার কাছে অনেক ফোনকল আসে এ নিয়ে তারা ঝগরা করেছে সকালে।বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে আপোষ-মিমাংসা হয়ে যায় এবং তারা হাসিমুখে বাড়ি থেকে বিদায় নেন।এ ঘটনার একদিন পড়ে সোমবার সকালে রুনু বেগম ও তার আপন তিন বোন নিয়ে নব আত্বীয় মেয়ের জামাই বাড়িতে গেলে মেয়ে শিখাকে দেখতে না পেয়ে শিখার শাশুরী আসমা বেগমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আপনার মেয়ের সাথে অন্য ছেলের প্রেম ছিলো,সে রাত্রে কোন এক সময়ে কাউকে না বলে পরকিয়ার জেরে পালিয়ে গেছে।এ সংবাদে রুনু বেগম তার নিজ বাড়িতে এসে ঘটনাটি সবাইকে বলে পুনরায় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মেয়ের শশুরবাড়িতে যায়।সেখানে গেলে মেয়ের শশুর-শাশুরী,দেবর ও ননদ সবাই একই কথা বললে মনে সন্দেহ হলে বাড়ির পিছনে ঝোপ-জঙ্গলে খোজাঁখুজি করতে থাকি।এ সময়ে বাড়ির পশ্চিমে ১০০গজ দুরে একটি পুকুর চোখে পড়ে।সেখানে গেলে পুকুরের সমস্ত কচুরিপানা একজায়গায় পালা দিয়ে রাখা দেখতে পাই।পুকুরের কচুরিপানা পালা দেওয়া কেন জানতে চাইলে মেয়ের জামাই রুহুল আমিন ও তার মা আসমা বেগম জানান,মাছ ধরা হবে বলে সব কচুরিপানা এক জায়গায় স্তুপ করে রাখা হয়েছে।তাদের আচার ও আচরনে সন্দেহ হলে আমি ও আমার ছোট বোন তাদের বাধাঁ উপেক্ষা করে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে কচুরিপানা সরালে আমার মেয়ের ওড়না দেখতে পেয়ে ভালোভাবে কচুরিপানা সরালে আমার মেয়েকে গলায় কলসি বাধাঁ অবস্থায় মৃত দেখতে পাই এবং তাৎক্ষনিকভাবে দোহার থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানাই।এ সময়ে শিখার জামাই রুহুল আমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আমাদের লোকজন ঘিরে ফেললে দৌড়ে তার ঘরে ঢুকে।এ সময়ে আমি ও আমার তিন বোন দৌড়ে রুহুল আমিনের ঘরে ঢুকে ঘাতককে আটক করি এবং আমার গলার ওড়না দিয়ে জানালার গ্রীলের সাথে আটকে রাখি।এ সময়ে দোহার থানার এক পুলিশের সদস্য জানালার গ্রীল থেকে ওড়নার বাধঁন খুলে রুহুল আমিনকে পালাতে সাহায্য করে বলে অভিযোগ করেন রুনু আকতার ও তার তিন বোন।পরে ঘটনাস্থলে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম উপস্তিত হলে পুলিশ সদস্যের এমন কর্মকান্ডের বিচার ও তার অপসারন দাবী করি।অপরদিকে এ ঘটনায় পুলিশ বাথরুমের ভিতর থেকে রুহুল আমিনের মা আসমা বেগম,বোন মারিয়া আক্তার,ভাই মারুফ খানের স্ত্রী মোহনা ও চাচা খোকন খানকে আটক করে। সোমবার রাত্রে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামী রুহুল আমিনের আটক চাচা,বোন ও ভাবীকে ছেড়ে দেন।আটক রুহুল আমিনের মা আসমা বেগমসহ মোট চারজনকে আসামী করে মামলা গ্রহন করে পুলিশ।আদালত আটক আসমা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ড মন্ধসঢ়;জুর করেন।গতকাল শুক্রবার রিমান্ড শেষে আসমা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানান পুলিশ। এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,নিহত শিখার মরদেহ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এবং হত্যার ঘটনার অন্যতম নায়ক রুহুল আমিনকে আটক করা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।এ ঘটনায় নিহত শিখার শশুর আনোযার হোসেন,শাশুড়ি আসমা বেগম,স্বামী রুহুল আমিন ও ননদের জামাই সাঈদুর রহমানকে আসামী করে একটি হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরদিকে নিহত শিখার হত্যাকারীদের দ্রুত আটক, বিচার ও ফাসিঁর দাবিতে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও করেছে তার স্বজনরা। দোহার,ঢাকা।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00