ব্রেকিং নিউজঃ

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান
bodybanner 00
বাগেরহাটের শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকরা।
 

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার সদ্য সরকারি ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলগুলো হচ্ছে- ৩৭নং পশ্চিম বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪১নং উত্তর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৪নং পূর্ব খোন্তাকাটা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১নং বড় রাজাপুর নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৪নং উত্তর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৭নং বড় রাজাপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮নং তালতলী নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৪নং উত্তর মালিয়া রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫নং ছোট রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৫নং রাজাপুর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৭নং দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৯নং তালতলী উল্লাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬২নং দক্ষিণ ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উত্তর কদমতলা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার ও লাইজু জানান, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দালানে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। কখন ছাদ ভেঙে ভেঙে পড়ে। বৃষ্টির সময় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। বানিয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারভীন আক্তার বলেন, ছাদ ধসে পড়ার ভয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাইরে বসে লেখাপড়া করাই।

শরণখোলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা মো. আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেন ও মিজানুর রহমান জানান, স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা এমন পর্যায় এসে দাঁড়িয়েছে, যে কোনো সময় ছাদ, ওয়াল বা পিলারের অংশ ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করছেন। কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ছয় মাস আগে ডিও লেটার দিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও ভবন নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না

শরণখোলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা এর আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। ছাদ ধসে পড়ছে, প্লাস্টার নেই, ইটের গাঁথুনি ভেঙে পড়ছে, ক্লাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় কোমলমতি শিশুরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ইউএনও লিংকন বিশ্বাস জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে রেজুলেশন ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00