ঠাকুরগাঁওয়ে সেতু ভেঙে পড়ায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে সেতু ভেঙে পড়ায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
bodybanner 00


ঠাকুরগাঁওয়ের সেনুয়া নদীতে সেতু ভেঙে কয়লাবাহী ট্রাক  বিধ্বস্ত  হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সেতু ভেঙে পড়ায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

ঠাকুরগাঁও শহরের পাশে বরুনাগাঁও এলাকায় সেনুয়া সেতুটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। এলজিইডি কয়েকবছর পূর্বে এ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এর উভয়পাশে সাইনবোর্ড এঁটে দেয়। তারপরও বিভিন্ন ইটভাটার মাহেন্দ্র ট্রাক্টর নিয়মিত চলাচল করে।

এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় একটি কয়লাবোঝাই ট্রাক শহর হতে ফাঁড়াবাড়ি এলাকায় একটি ভাটায় যাচ্ছিল। অতিরিক্ত বোঝাই ওই ট্রাকটি ঝুঁকিপূর্ণ ওই বেইলি সেতুর উপর উঠলে  ট্রাকসহ ভেঙে পড়ে। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায়  আকচা, বড়গাঁও, রাজাগাও, সালন্দর, ঢোলারহাটসহ ৫ ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে স্থানীয় ২ ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে পারাপারের জন্য নদীতে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে। মানুষ পারাপারের নামে মাথাপিছু ৫ টাকা এবং মটর সাইকেল প্রতি ১০ টাকা করে আদায় করে।

দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের মোখলেসুর রহমান জানান, ফাড়াবাড়ি রাস্তায় সেনুয়া সেতুটিকে এলজিইডি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে কয়েক বছর পূর্বে সাইনবোর্ড দেয়। তারপরও ওই সড়কে ইট ভাটার মালামাল বন্ধ হয়নি। তারই ফলশ্রুতিতে আজ ভেঙে পড়েছে লোহার এই বেইলি সেতুটি। চাপাতি গ্রামের কাদেরুল ইসলাম জানান, সেতু ভেঙে পড়ার পরপরই সরকারিভাবে অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার দরকার ছিল। কিন্তু স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো দিয়ে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। এটা বন্ধ করা দরকার। বড়গাঁও গ্রামের মাসুদ রানা জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ার জন্য দায়ী ট্রাক চালক ও তার মালিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাত চন্দ্র সিংহ  জানান, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত গতিতে সেতুটি নির্মাণ করা উচিত।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, পথচারীদের অসুবিধার কথা ভেবে এলজিইডিকে দ্রুত সেতুটি নির্মাণে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আশা করি শিগগিরই পথচারীদের চলাচলের অসুবিধা দূর হবে।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00