ব্রেকিং নিউজঃ

টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে জোবায়ের ও সা’দ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ নিহত-১ আহত ৫০০

টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র  করে জোবায়ের  ও সা’দ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ  নিহত-১ আহত ৫০০
bodybanner 00

স্টাফ রিপোর্টার:

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জমাতের জোবায়ের ও সা’দ গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে ইসমাইল মন্ড (৭০)নিহত হয়েছে । নিহতে গ্রামের বাড়ি মুন্সি জেলার মিলকি গ্রামে বলে জানা গেছে। এঘটনায় প্রায় ৫শতাধীক আহত হয়েছে। আহতদেরকে টঙ্গী সরকারী হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। বন্দ ছিল ঢাকা-ময়মসসিং মহাসড়ক। এতে যাত্রীদেও ভোগান্তি ছিল চরমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়দান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জানা গেছে, সাদপন্থী তাবলিগ মুরুব্বীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে কওমি মাদরাসা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র এসে অবস্থান নেয় ইজতেমা ময়দানে। তারা সাদপন্থীদের মাঠ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। সাদপন্থীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা বিশ্ব ইজতেমা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ৩০ নভেম্বর জোড় ইজতেমায় যোগ দিতে আসা কয়েক হাজার মুসুল্লি ইজতেমা ময়দানে ঢুকতে গেলে দেওবন্দ কওমিপন্থী মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা তাদের বাধা দেন। কয়েকদিন আগে থেকেই হাজার হাজার ছাত্র ময়দানে ঢোকার ফটকগুলো বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নেন তারা। ফলে কয়েক দিন ধরে জোড় ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসুল্লিরা শুক্রবার ময়দানে ঢুকতে না পেরে আশপাশের মসজিদে অবস্থান নেন। পরে আজ শনিবার ভোরে আবারও তারা ময়দানে ঢুকতে গিয়ে জোবায়েরপন্থীদের বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে ওই এলাকায় মুসুল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই মুরুব্বী আরও বলেন, জোড় ইজতেমায় যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে তারা তা করবেন না। তারা কারও সঙ্গে মারামারি হানাহানি করবেন না, ময়দানে বসে শুধু মোনাজাত করে চলে যাবেন। তারা পুলিশের প্রতি ছাত্রদের ময়দান থেকে মাদরাসায় ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। অপরদিকে দেওবন্দ কওমিপন্থী তাবলিগ মুরুব্বী মো. মাহফুজ জানান, ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর তাদের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা শুনে সাদপন্থীরা ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দু’পক্ষকে ডেকে নিয়ে নির্বাচনের আগে জোড় ইজতেমা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। সেখানে উভয় পক্ষই ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তারপরও সাদপন্থী কয়েক হাজার তাবলিগ মুসুল্লি শনিবার ভোরে জোড় ইজতেমা করার জন্য ময়দানে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. এমদাদুল হক ঘটনার সত্যত্যা স্বীকার করে বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইজতেমা ময়দান এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইন আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার থোয়াই অংপ্রু মারমা বলেন, ইজতেমা ময়দানের মুসুল্লিদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘœ হচ্ছে। তবে মুসুল্লিদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। এদিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর র‌্যাব-১ এর সিইউ লে. কর্ণেল সারোয়ার মানবজমিনকে বলেন, ইজতেমা মাঠে সকাল থেকে উত্তেজনা বিরাজ করে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের দুপক্ষকেই বুঝিয়ে পরিস্থিতি ঠা-া করি। তারাও ভালোভাবে ইজতেমা মাঠ ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যায়। টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ইজতেমা মাঠের আশপাশের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে এই আতঙ্ক। সংঘর্ষ চলাকালীন সেখানকার দোকানপাটও বন্ধ থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনার পরও সে আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা যায়। বিকাল তিনটার দিকে কলেজ শেষ করে আসা শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন বলেন, কলেজ থেকে শুনেছি এখানে ঝামেলা হচ্ছে। এখন ভয় হচ্ছে এই রাস্তাটি দিয়ে বাড়ি ফিরতে। রাস্তায় কোনো বাসও পাচ্ছি না। কলেজ থেকে হেঁটেই যাচ্ছি। সুমি সুলতানা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাসা খুব কাছেই। কিন্তু এ রাস্তা দিয়ে যেতে খুব ভয় হচ্ছে। এত রক্তাক্ত পরিস্থি আগে কখনো দেখিনি। মোহাম্মদ শাহজাহান নামের এক চা দোকানি বলেন, সকাল থেইকা তো দোকান বন্ধ রাখছি। এখন দেখি সব ঠা-া। যা দেখছি খুব ভয় লাগতেছে। কখন আবার শুরু হয় ঝামেলা। এরা কি ইসলামের দাওয়াত দিবো। ইসলাম মানে তো শান্তি । উল্টা হেরা অশান্তি শুরু করছে। ফরিদ নামের এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, মারামারির সময় দোকান রাইখা বাড়িতে চইলা যাই। আমার ছেলে স্কুলে গেছে। এখন ওরে আনতে যাইতেছি। না জানি আবার হামলা হয়। তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহসড়ক এবং টঙ্গীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সকালে ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল্লাহপুর থেকে আসা সবকটি যানবাহন বন্ধ থাকে। এর ফলে সড়ক ও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00