ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়ে হাঁপানির ঝুঁকি

ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়ে হাঁপানির ঝুঁকি
bodybanner 00

আমাদের সবারই অ্যাজমা রোগ সম্পর্কে কমবেশি ধারণা রয়েছে। অ্যাজমা হলো শ্বাসনালির এক ধরনের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে হঠাৎ করে শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট এবং সঙ্গে শুস্ক কাশি। শ্বাস নেওয়ার ও ফেলার সময় বাঁশির মতো শোঁ শোঁ শব্দ হয় এবং শ্বাস নেওয়ার চেয়ে ফেলতে আরও বেশি কষ্ট হয়। অনেক সময় দমবন্ধভাবও অনুভূত হতে পারে। অবস্থা এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, অক্সিজেন না পেলে এবং ওষুধ দিয়ে শ্বাসনালির আবদ্ধ ও সংকুচিত অবস্থার পরিবর্তন না ঘটালে রোগীকে বাঁচিয়ে তোলা কষ্টকর কাজ হয়ে পড়ে। এই অ্যাজমার সঙ্গে রয়েছে ধুলাবালু, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, ধোঁয়া, উত্তেজক পদার্থ, পরাগরেণু, অ্যালার্জিক খাবার- এ রকম নানা কিছুর সম্পর্ক।

আমরা আবার অনেককে বলতে শুনি, যাদের পুরনো এবং বেশি মাত্রায় হাঁপানি রয়েছে, তাদের আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে, ঠাণ্ডা বাতাস বইলে অথবা হঠাৎ বৃষ্টি নামলে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কথাটা শুনলে এক সময় কেমন রহস্য রহস্য মনে হতো।

কিন্তু বিশ্বব্যাপী আবহাওয়াজনিত তথা বজ্রবৃষ্টিজনিত কারণে আশঙ্কাজনকহারে মানুষের অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর খবরে এই অবিশ্বাস্য যোগসূত্রটি এখন পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সর্বশেষ বিপর্যয়ের খবর এসেছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কুয়েত থেকে। সেখানে চার ব্যক্তি এ রকম ঝড়বৃষ্টির পরপরই আইসিইউতে অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কালবৈশাখীতে অ্যাজমায় আক্রান্তের খবর সর্বপ্রথম পাওয়া যায় ১৯৮০ সালে বার্মিংহামে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েগাওয়েগা, লন্ডন, ইতালির নেপলস, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা এবং ইরানের আহভাজে এ ধরনের ঝড়বৃষ্টিজনিত অ্যাজমার প্রকোপের খবর মিডিয়াতে ফলাও করে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কালবৈশাখীর সময়ে বাতাসে বৃষ্টিজনিত আর্দ্রতার প্রভাবে পরাগরেণুগুলো আরও বড় আকার ধারণ করে। এর পর পরাগরেণুগুলো ভেঙে আরও ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে। তীব্র বজ্রবৃষ্টি আর বাতাসের তোড়ে ভাসমান ছোট পরাগকণিকাগুলো লোকালয় তথা মানুষের সংস্পর্শে চলে আসে। এর পর শুরু হয় বিপর্যয়। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় আরও দেখতে পেয়েছেন, যারা হে ফিভারে আক্রান্ত তারা এ ধরনের বজ্রপাতজনিত অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। হে ফিভারে আক্রান্ত রোগীরা অ্যালার্জিজনিত কারণে প্রায়ই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন। এ রোগে আক্রান্ত শতকরা ৯৬ জনের মাঝে এক ধরনের রাই ঘাসের পরাগজনিত অ্যালার্জির আলামত পাওয়া গেছে। একবার হে ফিভার দেখা দিলে ধীরে ধীরে শ্বাসনালি হয়ে ওঠে অতিরিক্ত সংবেদনশীল। রাইঘাসের পরাগে রয়েছে সর্বোচ্চ ৭০০ স্টার্চ বা শর্করার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা।

পরে বাতাসে ভাসমান এই সূক্ষ্ণ পরাগকণিকার সংস্পর্শে এলে তারা সহজেই হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হন। কালবৈশাখীজনিত অ্যাজমার উৎপাত পাশ্চাত্যে অক্টোবরের শুরু থেকে ডিসেম্বর মাসব্যাপী যখন পরাগরেণু বাতাসে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেখা যায় ঠিক সে সময় ব্যাপকতা লাভ করে। ঋতু পরিক্রমায় আমাদের দেশে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এ ধরনের আবহাওয়াজনিত শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বৈশাখের শুরুতে আমরা যখন প্রতিনিয়ত বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা আর ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের খবর পাচ্ছি, তখন হাঁপানির মতো উটকো সমস্যা সভাবতই আমাদের আরও ভাবিয়ে তুলবে। এজন্য চাই আগাম সতর্কতা। যারা অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত তাদের এ সময় মুখে মাস্ক পরাসহ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে অ্যালার্জি প্রতিরোধক ওষুধ এবং নাকে স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00