brandbazaar globaire air conditioner

জাল জালিয়াতিসহ দুর্নীতিতে ভরে উঠেছে সাবরেজিষ্ট্রার অফিসগুলো।

জাল জালিয়াতিসহ দুর্নীতিতে ভরে উঠেছে সাবরেজিষ্ট্রার অফিসগুলো।
epsoon tv 1

সাধন রায় লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

জাল জালিয়াতিসহ দুর্নীতিতে ভরে উঠেছে লালমনিরহাটের সাবরেজিষ্ট্রার অফিসগুলো। গত ২০১৮ সালে এতদ সংক্রান্ত বিস্তারিত খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা রেজিষ্ট্রার প্রতিটি সাবরেজিষ্ট্রারের নিকট থেকে মাসিক মোটা অংকের সেলামী নিয়ে থাকেন। যা প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসের অফিস সহকারীরা ঘুষের টাকা তাকে দিয়ে থাকেন বলে একটি বিশ^স্ত সুত্রে জানা গেছে। ২০১৮ সালে আদিতমারীর এক সাংবাদিক দলিল লেখক ও সাবরেজিষ্ট্রারের দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য ফেসবুকে উল্লেখ করেছিলেন। তারা জমির শ্রেণীর পরিবর্তনসহ হেবার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন কায়দায় সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ওই টাকা তারা সকলে মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। সাবরেজিষ্ট্রারগন প্রতিদিন খালি বিটকেস নিয়ে অফিসে আসেন আর বাড়ি ফেরার সময় বিটকেস ভর্তি টাকা নিয়ে যান। যা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদেরকে নজরদারীতে রাখলে তাদের দুর্নীতির থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়বে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট অফিসের ক্যারানিদের মাধ্যমে দলিল লেখকরা তাদের ভাগের টাকা প্রদান করে থাকেন। যা লালমনিরহাট সাবরেজিষ্ট্রার অফিসের কেরানি বাবুল ও আদিতমারী সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে গিয়ে ক্যারানি আইয়ুব আলীর টাকা কালেকশন করার দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করা গেছে। ওই ২ জন কেরানি অফিসের সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুর রশিদ ও মিরাজ সৌরভ এর নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা কালেকশন করছেন উক্ত আইয়ুব আলী ও বাবুল। যদিও আদিতমারীর সাবরেজিষ্ট্রার একজন সৎ অফিসার বলে জানা গেছে। কিন্তু এভাবে প্রতিটি অফিসের ক্যারানিরা প্রতিটি সাবরেজিষ্ট্রারের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘুষের টাকা কালেকশন করে থাকেন। দলিল লেখকগন জমির ক্রেতার নিকট থেকে সরকারী মুল্যের চেয়ে ২/৩ গুন অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে একাধিক জমির ক্রেতার নিকট থেকে জানা গেছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, একজন দলিল লেখক মাসে ১/২ টি দলিল পার করতে পারলে সারা মাস তাঁর আর কোনো অভাব থাকে না। দলিল লেখক সমিতির কাছে সাধারণ জনগণ জিম্মি হয়ে পরেছে। জমির কোনো ক্রেতা তাদের অতিরিক্ত ফি’র বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোন সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কর্মকর্তারা সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে ওৎ পেতে থাকলে কেরানিদের ঘুষ বানিজ্যের আদায়কৃত টাকা এবং সাবরেজিষ্ট্রার বাড়ি ফেরার সময় তার বিটকেস তল্লাশি চালালে হাতে নাতে ধরা পরবে তাদের ঘুষের টাকা। এদিকে সাবেক সাবরেজিষ্ট্রার রাম জীবন কুন্ড সরকারী ৮ শতাংশ জমি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জনৈক ব্যক্তির নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে উক্ত সুচতুর রাম জীবন কুন্ড জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ আসাদবীন খালিদসহ কয়েকজন সাংবাদিককে ম্যানেজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জমি মালিকানায় দেওয়ার বিষয়টি জানার জন্য একজন সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনের ফরমে জেলা রেজিষ্ট্রারের নিকট আবেদন করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো তথ্য ওই সাংবাদিককে দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে জেলা রেজিষ্ট্রার উক্ত সাবরেজিষ্ট্রার রাম জীবন কুন্ডকে অফিসে ডেকে এনে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জোড় তৎবির চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত সাবরেজিষ্ট্রার রাম জীবনের এহেন ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে অফিসে তোলপাড় অবস্থার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, রাম জীবন কুন্ড কিছুদিন আগে লালমনিরহাট সদরের সাবরেজিষ্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকায় হওয়ায় এখানে কর্মরত থেকে ঘুষ বানিজ্যসহ ব্যাপক অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরেছিলেন। বর্তমান সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুর রশিদ লালমনিরহাট সদরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার অফিস করেন। পরের সংখ্যায় সাবরেজিষ্ট্রার ও তাদের অফিসের কেরানিদের সমস্ত দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে।

epsoon tv 1

Related posts

body banner camera