চৌকস তারা

চৌকস তারা
bodybanner 00

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী বিজনেস ইনসাইডার হলিউড কাঁপানো চৌকস ৩০ জন তারকার তালিকা প্রকাশ করেছে। শুধু অভিনয় দক্ষতা নয়, তারকাদের লেখাপড়া, সামাজিক জীবন, বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা—এ আচরণকে বিশ্লেষণ করে ৩০ জন বুদ্ধিদীপ্ত তারকার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচজনের কথা বলা হলো এখানে।

অ্যাশটন কুচারঅ্যাশটন কুচারদায়িত্বশীল অ্যাশটন
ভক্তদের কাছে ব্যক্তিত্ববান হিসেবে জনপ্রিয় অ্যাশটন কুচার। কৈশোরে তাঁকে দুষ্টমির জন্য স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর শিক্ষকেরা। সেবার কোনোমতে বেঁচে যান অ্যাশটন। হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়াতে ভর্তি হন এই তারকা। কিন্তু ১৯ বছর বয়সে পড়াশোনাকে বিদায় জানিয়ে মডেলিংয়ে নাম লেখান তিনি। এখন অ্যাশটন মনে করেন, ‘আমি চেষ্টা করলে এমআইটিতে প্রকৌশল বিষয়ে ভর্তি হতে পারতাম।
অভিনয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন অ্যাশটন, ব্যবসাতেও দারুণ সফল তিনি। এয়ারবিএনবি, স্পটিফাই আর ফোরস্কয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের একজন অ্যাশটন। হলিউডের অন্যতম ব্যবসায়িক কৌশল জানা অভিনেতা হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় তিনি। নিজের সন্তানের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ না করে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিলেন। দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তিনি সন্তানদের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন না। চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে সামাজিক অধিকার নিয়ে বেশ সচেতন এই তারকা। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র পৃথিবীর আর্থসামাজিক অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনের করেন তিনি।

নাটালি পোর্টম্যাননাটালি পোর্টম্যাননাটালি অনেক কিছুই করেন
ব্ল্যাক সোয়ানখ্যাত অভিনয়শিল্পী নাটালি পোর্টম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক নাটালি। মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের আগেই হলিউডে পা পড়ে তাঁর। নিজের তারকা নাম লুকিয়ে নাটালি হার্শেল্যাগ নামে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। যদিও পরে এক অধ্যাপক নাটালির আসল নাম-পরিচয় জেনে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হন এই তারকা। একগাদা সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি নাটালির লেখা দুটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে জার্নালে। ছয়টি ভাষা জানেন তিনি।
বুদ্ধিমান হিসেবে বন্ধুমহলে নাটালি বেশ জনপ্রিয়। তির ছোড়া, ঘোড়া চালানোর মতো কঠিন আর মস্তিষ্কের কাজ বেশ ভালোমতোই জানেন এই তারকা। নান্দনিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আলোচিত তিনি। নিখুঁতভাবে চরিত্র চিত্রায়ণ আর প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য ভক্তরা তাঁকে পছন্দ করেন। নাটালি অভিনয়কে যেমন খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেন, তেমনি সামাজিক বিভিন্ন দাতব্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের জন্য সময় দেন। বিভিন্ন শিশু হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত এই তারকা। আন্তর্জাতিক শিশু দিবসে হাসপাতালে গিয়ে শিশুদের চমকে দেওয়ার নজিরও আছে তাঁর।

এলিজাবেথ ব্যাংকসএলিজাবেথ ব্যাংকসগবেষক এলিজাবেথ
এমি পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়ে অভিনয়শিল্পী এলিজাবেথ ব্যাংকস যতটা না আলোচিত, তার চেয়ে বেশি আলোচিত তিনি গবেষণার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াতে যোগাযোগ ও থিয়েটারশিল্প নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। থিয়েটারবিষয়ক গবেষণা আর লেখালেখির জন্য সংবাদপত্র আর ম্যাগাজিনে তাঁর নাম দেখা যেত বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই। সবাই ভেবেছিলেন, এই তারকা ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পরে পুরোপুরো সিনেমায় ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। চমকে দিয়ে এলিজাবেথ ভর্তি হন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে। বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের থিয়েটারচর্চা। এখন সিনেমায় যেমন ব্যস্ত, তেমনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত এলিজাবেথ। নিজেকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা বিষয়ে লেখালেখি করেন এলিজাবেথ। তিনি মনে করেন, একজন অভিনয়শিল্পীর পর্দায় যেমন কাজ দেখানোর সুযোগ আছে, তেমনি তাঁকে গবেষণার দিকেও সময় দেওয়া উচিত। শিল্পীরা গবেষণার প্রতি আগ্রহী হলে সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক বিকাশ ঘটবে সমাজে।

এমা ওয়াটসনএমা ওয়াটসনপর্দার বাইরে বেশ ব্যস্ত এমা
শৈশবের পুরো সময়টা এমা ওয়াটসন কাটিয়েছেন সিনেমার শুটিং স্পটে। ‘হ্যারি পটার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য শৈশব থেকেই তারকাখ্যাতি তাঁর। সবার ধারণা ছিল, অন্য সব তারকার মতোই স্কুলমুখী হবেন না শিশু অভিনেতা এমা। সবাইকে চমকে দিয়ে একদিকে হ্যারি পটার-এ অভিনয় করেছেন তিনি, তেমনি ঠিক সময় পরীক্ষার হলেও হাজির ছিলেন। এমা ২০১৪ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১১ সালে এক বছরের জন্য সিনেমা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। সিনেমার বাইরে বিভিন্ন সামাজিক অধিকারবিষয়ক কাজের জন্য আলোচিত তিনি। অভিনেত্রী পরিচয়ের পাশাপাশি সবার অধিকার নিয়ে কাজ করতে গর্ববোধ করেন এই তারকা।
জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংগঠন ইউএন উইমেনের শুভেচ্ছাদূত তিনি। বাংলাদেশেও একবার এসেছিলেন এমা। কয়েক বছর ধরে নারীদের অধিকার নিয়ে পুরুষদের সচেতন করতে ‘হি ফর শি’ কার্যক্রম নিয়ে বেশ ব্যস্ত তিনি। এত কিছুর পরও এমা নিজের বইয়ের দুনিয়া নিয়ে বেশ ব্যস্ত। প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো বই নিয়ে ভক্তদের উজ্জীবিত করেন।

ম্যাট ডেমনম্যাট ডেমনপৃথিবী নিয়ে ভাবেন ম্যাট
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ক্লাসওয়ার্ক হিসেবে ‘গুড উইল হান্টিং’ নামের একটি গল্প দাঁড় করিয়েছিলেন ম্যাট ডেমন। পরবর্তীকালে সেই গল্প থেকেই সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি করে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন ম্যাট নিজেই। খুব ভালো ছাত্র হিসেবে শিক্ষকমহলে বেশ আলোচিত ছিলেন। পড়াশোনাকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের মধ্য সময়ে বিদায় জানিয়ে অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
নান্দনিক অভিনয়ের জন্য ম্যাটকে ২০১৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ‘আর্টস মেডেল’ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে দ্য মার্শিয়ান সিনেমায় মহাকাশচারী বিজ্ঞানী হিসেবে অভিনয় করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এই তারকা। পৃথিবী রক্ষাসহ বিভিন্ন সবুজ আন্দোলনে সোচ্চার ম্যাট ডেমন। সামাজিক দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে নিজের চেয়ে পৃথিবীর জন্য কিছু করতে ভালোবাসেন এই তারকা। বিভিন্ন সামাজিক দুর্যোগে নাম-পরিচয় লুকিয়ে রেখে অর্থ অনুদান দেন এই তারকা।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00