চমক দিতে পারল কই?

চমক দিতে পারল কই?
bodybanner 00

সব সকালই দিনের সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে? ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার দেখে যা বোঝার মানুষ আগেই বুঝে গেছে। ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার দেখেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান দর্শকেরা। সেখানে ছবিটি কতটা দর্শকের মনে ধরবে, সে প্রশ্ন কিন্তু আগে থেকেই ছিল। দেওয়ালি উৎসবে ঠগদের কাহিনি নিয়ে তৈরি ছবিটি মুক্তি পেয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। কিন্তু ছবিটি ঘিরে বলিউডে যে কৌতূহল আর আগ্রহ ছিল, তা মিইয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয় না। ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের মন খচখচ করবেই। এনডি টিভির অনলাইন সংস্করণে ছবিটি নিয়ে একটি পর্যালোচনা দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ছবিটি নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। ছবিতে অমিতাভ বচ্চন আর আমির খানের মতো দুজন শক্তিশালী অভিনেতা দুটি দারুণ চরিত্রে অভিনয় করেও ছবিটিকে টেনে নিতে পারেননি।

‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন ও আমির খান‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন ও আমির খানঅমিতাভ বচ্চন এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আজাদ চরিত্রে। ভারতে ব্যবসা করতে আসা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায় তাঁকে। কোম্পানির হাত থেকে ভারতকে স্বাধীন করতে লড়েছেন তিনি। এ যুদ্ধে তাঁর সহযাত্রী জাফিরার চরিত্রে দেখা যায় তিরন্দাজ ফাতিমা সানা শেখকে। আর ফিরিঙ্গি বেশে ইংরেজদের ভাড়াটে হিসেবে আজাদকে কবজা করতে কাজ করবেন আমির খান। ছবিতে ফিরিঙ্গি আমিরকে সঙ্গ দিতে দেখা যায় ক্যাটরিনা কাইফকে। এই হচ্ছে ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’। ছবিতে ফাতিমা কয়েকটি দৃশ্যে ঝলক দেখাতে পেরেছেন আর ক্যাটরিনাকে শুধু গানেই দেখার মতো।

এনডি টিভি লিখেছে, ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবিটি নিয়ে কম কথা হয়নি। এককথায় এ বছরের ‘ধুমধাড়াক্কা’ ছবি হিসেবে ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ সবার মন জয় করবে বলেই মনে করা হচ্ছিল, কিন্তু ছবিটি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের কাহিনি, অ্যাকশন আর প্রচারের প্রভাব রেখেছে। অমিতাভ বচ্চন আর আমির খান তাঁদের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। দুজন সুপারস্টার অভিনীত ছবিটি যে মানের হওয়ার কথা, তা পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। যথেষ্ট বাজেট আর শক্তিশালী দুজন অভিনেতা নিয়েও বিজয় কৃষ্ণর ছবিটি সমুদ্র থেকে ডাঙায় উঠতে পারল না, সে আফসোস থাকবে।

‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে আমির খান ও ক্যাটরিনা কাইফ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে আমির খান ও ক্যাটরিনা কাইফএনডি টিভি লিখেছে, ভারতের নাবিকদের লড়াই ও আবেগ আর বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মসলা—সবই ছিল। কিন্তু পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের চিত্রনাট্য বাঁধা হলো না ঠিকমতো। উনিশ শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার এবং বিদেশি শক্তির দাসত্ব প্রত্যাখ্যান করতে সংগঠিত হওয়া হাজারো মানুষের গল্পই উপজীব্য। অতিরিক্ত গম্ভীর চরিত্রে অমিতাভ ও একেবারে লঘু মজার চরিত্রে আমির খান। প্রত্যাশা ছিল অনেক, তবু চলচ্চিত্রের বড় বাজেট থেকেও ভরাডুবিই হলো ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’–এর।

খোদাবক্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। একজন নাবিক, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে এক অত্যাচারী ব্রিটিশ অফিসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁর লোকদের প্রশিক্ষণ দেন। কোঁকড়া চুল, চোখে কাজল, কানে দুল আর নাকে নাকছাবি পরা আমির ফিরিঙ্গি মাল্লার ভূমিকায় তেমন ছাপ রাখতে অপারগ। বারবার চরিত্র বদলায় তাঁর। বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে ঝুলন্ত এক চরিত্র! দুই মূল অভিনেতার ভূমিকার চড়া মানের অসামঞ্জস্যে তরি ডুবেছে ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’–এর। অমিতাভ বচ্চন অত্যধিক ভারী চরিত্র, আবার আমির একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মজার চরিত্রে—সবমিলে লঘু হয়েছে সিনেমার ভাষা ও প্রকাশ।

‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে আমির খান‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির দৃশ্যে আমির খানধর্ম ও সংস্কৃতির ধারণা অনুসারে, ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ অদ্ভুত এক মিশ্রিত সংস্কৃতিই তুলে ধরেছে। যদিও প্রধান চরিত্রগুলোর বেশির ভাগই মুসলিম, তবু তাঁরা যে অনুষ্ঠানগুলো পালন করেছেন, তা হিন্দু অভ্যাসকেই প্রতিফলিত করে। এটা ইতিবাচক সংহতির বার্তা নাকি নিছক অবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া ভুল! চলচ্চিত্রের শেষ পর্বে দশেরার দিনে একটি দুর্গে রাবণ পোড়ানোর দৃশ্য রয়েছে। অশুভের ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের এই ক্লিশে উদাহরণকে আরও ক্লিশে করে তুলেছে দুই নায়িকার মধ্যে একজনের এই অশুভ শক্তির হাতে মৃত্যুর ঘটনা।

এটা স্বীকার করতেই হবে, দৃশ্যগুলো দুর্দান্তভাবে ক্যামেরায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভিএফএক্স দিয়ে সিনেমাটোগ্রাফার মানুশ নন্দনের কাজের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে মাঝেমধ্যে।

‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির পোস্টারে ফাতিমা সানা শেখ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির পোস্টারে ফাতিমা সানা শেখআর বাকি গড়পড়তা অ্যাকশন সিনেমার মতোই অবশ্যম্ভাবী রূপে মেয়েদের ভূমিকা নেই, এখানেও তেমন। যদিও ফাতিমা সানা শেখ কিছুটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তার বাবা মির্জা সিকান্দার বেগ (রোণিত রায়) ক্লাইভের হাতে নিহত হন। ফাতিমা ঠাঁই নেন খোদাবক্সের অধীনে। রয়েছে ফাতিমার বেশ কিছু ভালো তিরন্দাজির দৃশ্য। অন্যদিকে ক্যাটরিনা কাইফ নৃত্যশিল্পী সুরাইয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেন। গান এবং নাচ ছাড়া আর কোনো ভূমিকাই নেই তাঁর।

চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপিত হয়েও বিষয়ের গাম্ভীর্য আর গল্পের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল না ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’। ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ বৃহত্তর অংশের শ্রোতাদের বিনোদন দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও গিয়ে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’–এর সঙ্গে তুলনা এড়াতে পারল না আমির-অমিতাভের থাগস।

‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে আমির খান, ফাতিমা সানা শেখ, বিজয় কৃষ্ণ আচার্য, ক্যাটরিনা কাইফ ও অমিতাভ বচ্চন‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে আমির খান, ফাতিমা সানা শেখ, বিজয় কৃষ্ণ আচার্য, ক্যাটরিনা কাইফ ও অমিতাভ বচ্চনআমির খান ও অমিতাভ বচ্চনের ছবির ভক্ত যাঁরা, তাঁদের ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবিটি সন্তুষ্ট করতে পারবে বলে মনে হয় না। ছবিটি কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা আর কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে।‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনা কাইফ ও আমির খান‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবির ট্রেলার

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00