ব্রেকিং নিউজঃ

ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন যেভাবে | দৈনিক আগামীর সময়

ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন যেভাবে | দৈনিক আগামীর সময়
bodybanner 00

অনেকেই মনে করেন ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করা অসম্ভব।কিন্ত এটা সত্য না।কিন্তু কীভাবে ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন সেজন্য লার্নার থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই এখানে বর্ণনা করা হলো।

কষ্ট করে পুরোটা পড়বেন। আশা করি তাহলে কোন দালাল ধরতে হবে না। মনে করতে পারেন চার-পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিলেতো আর এই ঝামেলা পোহানো লাগবে না। ধারনাটি ভুল।

যেভাবে ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন:

১) আপনি যত টাকাই ঘুষ দেন না কেন আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে পার করতে হবে। হয়তো টাকার জন্য পাস করে যাবেন।

২) আপনি টাকা দিলেই যে আপনার লাইসেন্স হবেই, তার সম্পূর্ণ কোন নিশ্চয়তা নাই। আরেকটা ব্যাপারতো সাথে থেকেই যায় যে কাকে টাকা দিবেন। এখন অনেকটাই কড়াকড়ি, তাই ঘুষ দিয়ে করা একটু ঝামেলা। তবে তার মাঝেও অনেকে ঘুষ দিয়ে লাইসেন্স করতেছে।

এবার মূল কথায় আসি, প্রথমে আপনাকে লার্নার কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে, (এটা লাইসেন্স না, এটা পরিক্ষার প্রবেশপত্র স্বরুপ) তার মাস তিনেক পর আপনার পরীক্ষার ডেট পড়বে।

এই লিঙ্ক থেকে লার্নার কার্ড করার আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন।http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf

তারপর লার্নার কার্ডটি যথাযথ পূরণ করে জমা দিয়ে দিন। সাথে যা যা লাগবে:

১) ভোটার আইডির ফটোকপি। (না থাকলে বয়স এবং ঠিকানার প্রমানপত্র)

২) ১ কপি রঙ্গিন পাসপোর্টের সাইজের ছবি।

৩) ৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি।

৪) সরকারি একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বা এম,বি,বি,এস ডাক্তার কর্তৃক ফর্মটি সত্যায়িত করতে হবে। (মিরপুর বি আর টি এ’র পাশের গলিতেই এই ফর্ম সত্যায়িত করাতে পারবেন ডাক্তার দ্বারা ৫০ টাকার বিনিময়ে)

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফী: লার্নার এর ফিস বাবদ ৫৭৫ টাকা। (টাকা কিছুটা কম বেশি হত পারে) যথাযথভাবে লার্নারের আবেদনপত্রটি জমা দিলে আপনাকে ২-৩ দিন পর লার্নার আনার জন্য ডেট দিবে। আপনি ওই ডেটে গেলে আশাকরি লার্নার পেয়ে যাবেন। আমার মনে হয় না একদিন আগে পাওয়ার জন্য দালাল ধরার দরকার আছে।

লার্নার পেলে দেখবেন যে আপনার ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার জন্য একটা পরীক্ষার দিন এবং কোথায় পরীক্ষা হবে, সেটা দেওয়া আছে। পরিক্ষার দিন সকাল ৯ টার মধ্যে ওখানে উপস্থিত থাকবেন।

ওখানে অনেক দালালই বলবে যে ঘুষ ছাড়া লাইসেন্স হয় না, এবং জিজ্ঞাসা করবে, “আপনার লোক আছে?” আপনি বলবেন, “হ্যা আমার লোক আছে” তা না হলে অনেকেই বিরক্ত করতে থাকবে।

কিছুক্ষণ পর পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা তিন ধাপে হবে। মোটামুটি সারাদিন লেগে যাবে পরীক্ষার তিন ধাপ শেষ করতে, তাই ঐদিন কোন কাজ থাকলে তা ম্যানেজ করে নিন। আপনি একধাপে পাশ করলেই, কেবল পরের ধাপে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

লিখিত পরীক্ষা টোটাল ২০ মার্কের লিখিত পরীক্ষা হবে। সময় ২০ মিনিট। আপনাকে ১২ পেতে হবে। ১২ পাওয়া অনেকটাই সহজ। তবে ইঞ্জিন মেকানিজমে আলাদা ২ মার্ক পেয়ে পাশ করতে হবে।

প্রশ্নের ধরন:

১) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন -৬টি ৬ মার্ক

২) ইঞ্জিন মেকাজিম সম্পর্কিত প্রশ্ন- ৬টি ৬ মার্ক

৩) নৈর্ব্যক্তিক– ৮ টি ৮ মার্ক নিচে একটি নমুনা প্রশ্নের লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। http://www.brta.gov.bd/index.php/list-of-bank-and-branches/31-services/driving-license/129-sample-questions

লিখিত পরিক্ষার জন্য BRTA থেকে ১২৬ টি প্রশ্ন দেওয়া আছে। এর বাহিরে আশা করি তেমন কিছুই থাকবে না। এই কয়টি প্রশ্ন ভাল করে পড়ে গেলে পাশ নিশ্চিত। নিচে ১২৬ টি প্রশ্নের লিঙ্ক এবং এবং কিছু নৈর্বত্তিক প্রশ্নের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি।

http://www.brta.gov.bd/images/questions/question_bank.pdf

http://www.brta.gov.bd/images/questions/MCQ_question.pdf (আপনি পেশাদার/ অপেশাদার যে লাইসেন্সের জন্যই আবেদন করেন না কেন, কষ্ট করে ১২৬ টি প্রশ্নই ভাল করে পড়বেন। সব প্রশ্ন মুখস্থ করতে হবে না। জাস্ট কয়েকবার পড়েন। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো কষ্ট করে মুখস্থ করবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন ব্যাংক ও উত্তর: মৌখিক পরীক্ষা আশাকরি এতক্ষণে আপনি লিখিত পরীক্ষায় পাস করে গেছেন। এখন মৌখিক পরিক্ষার পালা।

এখানে আপনাকে বিভিন্ন চিহ্ন দেখিয়ে বলতে বলবে কোনটা দিয়ে কি বুঝানো হচ্ছে। মনে করতে পারেন এটা তো একদমই সহজ, কিন্তু না ভাই, একদম সহজগুলো আপনাকে ধরবে না।

এখানে আশা করি ৫-৬ টির মত চিহ্ন দেখাতে পারে। এটার জন্যেও BRTA এর ওয়েবসাইটে সব ধরনের ট্রাফিক সাইন দেওয়া আছে, এর বাইরে কিছু থাকবে না। http://www.brta.gov.bd/index.php/traffic-signs

মোটর বাইকের জন্য প্রাকটিকাল পরীক্ষাঃ এটা হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেইন পরীক্ষা। মটরসাইকেল এর পরীক্ষা দিতে নিজের মটরসাইকেল নিয়ে যাবেন। অনেকে বলে যে Pulsar/ Apache/FZS বাইক দিয়ে প্রাকটিকাল পাস করা যায় না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি যদি প্রাকটিস করেন, অবশ্যই পাস করবেন।

আমার নিজের পালসার ১৫০ সিসি। আমি এটা দিয়েই পাস করেছি। ঐদিন ৩ জন পাস করেছে। এবং ৩টা ৩ ধরনের বাইক ছিল। অনেকে ছোট বাইক নিয়ে এসেছিল, কিন্তু একজনও সেই ছোট বাইক দিয়ে পাস করতে পারে নি।

প্রাকটিকাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবেঃ…

আগেই বলে নিচ্ছে পরীক্ষা ইচ্ছে করে কঠিন নেয়, যেন আপনি ফেল করেন এবং দালাল ধরেন। নিচের বিষয় খেয়াল রাখলে আশাকরি পাশ করে যাবেন।

১) আপনি যত ভালই বাইক রাইডার হন না কেন, ঝিকঝ্যাক (সাপের মত করে রাস্তা) রোডে পা না ফেলে যাওয়া এবং আবার সব শেষে পা না ফেলে অল্প যায়গার মধ্যে U-Turn নিয়ে একই ভাবে ফিরে আসা অনেকটা কঠিন।

২) পরীক্ষার ভেনুতে বসে পরীক্ষার আগে কয়েকবার প্রাকটিস করুন।

৩) ১০ ফুট পরপর লাঠি দেওয়া থাকবে, লাঠিতে লেগে গেলে, বা পা পড়ে গেল আপনি সাথে সাথে ডিসকোয়ালিফাইড।

৪) অবশ্যই হেলমেট পরিধান করে নিবেন।

চার চাকার গাড়ির জন্য প্রাকটিকাল পরীক্ষাঃ চার চাকা (প্রাইভেট কার) আপনি ইচ্ছে করলে নিজের গাড়ি অথবা ২০০-৪০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

নিজের গাড়ি থাকলে অবশ্যই নিজের গাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিবেন, তবে ছোট গাড়ি হলে ভাল হয়। ওখানকার বেশিরভাগ গাড়িই ম্যানুয়াল। অটো গিয়ারও থাকে। তবে ম্যানুয়াল গাড়িগুলো সাইজে ছোট, তাই পাস করা সহজ।

করণীয় বিষয়সমূহ:

১) আপানাকে ব্যাক গিয়ারে পিছনে গিয়ে নির্দিষ্ট একটা যায়গায় পার্কিং করতে হবে, আর ভাগ্য খারাপ থাকলে ইংরেজি Z এর মত রাস্তায় পিছনে আসতে হবে।

২) পরীক্ষার আগে আপনি ওদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েকবার প্রাকটিস করে নিতে পারেন।

৩) বাইকের মতই লাঠিতে লেগে গেলে আপনি বাদ।

৪) আপনি সবার শেষের দিকে পরীক্ষা দিবেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে কিভাবে করলে অনায়াসে গাড়ি পাশ করতে পারবেন।

যদি ফেল করেন:

১) যদি লিখিত মৌখিক বা লিখিত পরিক্ষায় ফেল করেন, তাহলে নতুন করে লিখিত পরিক্ষা থেকেই আবার শুরু করা লাগবে।

২) যদি প্রাকটিকালে ফেল করেন, তাহলে আপনাকে পরেরবার শুধু প্রাকটিকাল দিলেই চলবে।

৩) আপনি ২টি যানের জন্য আবেদন করে যদি একটাতে পাশ করেন, তাহলে আপনি চাইলে পাশকৃত একটি যানের জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন, অথবা আবার প্রাকটিকাল দিয়ে ২টা যানের জন্যই লাইসেন্স নিতে পারবেন।

৪) পরবর্তিতে আপনাকে পুনরায় পরীক্ষার জন্য একটি নতুন দিন দিবে। নিজ দায়িত্বে পরীক্ষার দিন ঠিক করে আনবেন।

যদি পাস করেন:

১) ৮-১০ দিন পর আপনাকে লার্নার আনতে হবে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে।

২) তারপর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সাথে আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।

৩) আবেদন করার পর আপনাকে ছবি তোলার জন্য একটা ডেট দিবে এবং লাইসেন্স প্রাপ্তি রসিদ প্রদান করবে, যা দিয়ে আপনি অনায়েসে রাস্তায় ড্রাইভিং করতে পারবেন, পুলিশ লাইসেন্সের ইস্যুতে ঝামেলা করতে পারবে না।

৪) নির্ধারিত দিনে গিয়ে ছবি তুলে আসবেন।

৫) তারপর ওরা আপানার ছবি তুলবে এবং আঙ্গুলের ছাপ নিবে। তারপর আপনার সামনেই আপনার নাম ঠিকানা সহ যে বিষয়গুলো লাইসেন্সে উল্লেখিত থাকবে, তা পূরণ করবে।

এবং পূরন করা শেষে বিষয়গুলো ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য সাইন করতে বলবে। ভাল করে সকল বিষয় খেয়াল করে সাইন করবেন।

৬) সবকিছু ঠিকঠাকমত সম্পন্ন করতে পারলে আপনাকে লাইসেন্স আনার জন্য একটা ডেট দিবে। আশাকরি তার আগেই আপনার মোবাইলে ম্যাসেজ চলে আসবে।

না আসলেও আপনি নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে খোঁজ নিবেন। পাশ করেন বা ফেল করেন, আপনাকে ঐ দিনই লার্নার দিবেনা। কয়েকদিন পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে লার্নার কার্ডটি আনতে হবে।

বিঃ দ্রঃ বাস্তব অভিজ্জতার আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হলোঃ

১) শুধু মটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে সর্বমোট ২৩০০+৫৭৫=২৮৭৫ টাকা BRTA তে জমা দিতে হবে। আর আপনি যদি দুইটা যানের লাইসেন্স একসাথে করেন, তাহলে আপনাকে মাত্র ১১৫ টাকা বেশি দিতে হবে।

২) সবাই ৪০০০-৫০০০ অতিরিক্ত যে টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে, আমি সেই টাকা দিয়ে একমাস প্রাইভেট কার শিখেছি। এবং একসাথে দুইটা লাইসেন্স করেছি, যদিও প্রাইভেট কার আমার দরকার ছিল না, কিন্তু পরে করতে গেলে অনেক ঝামেলা সহ্য করা লাগত।

৩) এক লার্নার কার্ড দিয়ে আপনি সর্বোচ্চ দুইবার পরিক্ষা দিতে পারবেন।

৪) কেউ আপনাকে ঝামেলায় ফেলতে চাইলে সরাসরি পরিচালক বা উপপরিচালকের সাথে কথা বলুন, তারা আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে, আমাকে সাহায্য করেছে।

লেখক: অনুপম কুমার,

তথ্যসূত্র: বাইক বিডি।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00