‘খালেদা জিয়ার হাত বাঁকা হয়ে গেছে, হাত তুলতে পারছেন না’

‘খালেদা জিয়ার হাত বাঁকা হয়ে গেছে, হাত তুলতে পারছেন না’
bodybanner 00

‘খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (গিটে গিটে ব্যাথা বা বাত) রোগে আক্রান্ত। ওনার হাত বাঁকা হয়ে গেছে, হাত তুলতে পারছেন না। এছাড়া ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, বাম উরুর জয়েন্টে ব্যথা ও বাম হাঁটু ফুলেছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বিএসএমএমইউর মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী সোমবার (০৮ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

সবকিছু ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহ পর তার (খালেদা জিয়া) মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাছাড়া তার অনেকগুলো রোগ রয়েছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে তারপর মূল চিকিৎসা শুরু হবে।

মেডিসিন বিভাগের সাবেক এই চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার রোগগুলো সম্পর্কে বলেন, মেডিকেল বোর্ড হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে হয়েছে। ওনার মূলত যে রোগ হয়েছে তা হচ্ছে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। এই রোগের কারণে ওনার শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা বা বাত সৃষ্টি হয়েছে। এ রোগের ওষুধ তিনি গত ৩০ বছর ধরে খাচ্ছেন। কিন্তু সঠিক পরিমাণে বা ডোজে খাচ্ছিলেন না। তাই জটিলতা বেড়েছে। এছাড়া বাম হাত বাঁকা হয়ে গেছে বা হাত তুলতে পারছে না, সবসময় কাঁপছে। ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, বাম উরুর জয়েন্টে ব্যথা ও বাম হাঁটু ফুলে গেছে। তাছাড়া ওনার দুই হাঁটু অনেক আগেই রিপ্লেস করা রয়েছে।

এদিকে ২০ বছর ধরে উনি ডায়াবেটিকে ভুগছেন। সেটিও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই। আর ওনার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগটি এখন বাড়ছে। তাছাড়া শরীরে সোডিয়াম কমে গেছে এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এর আগে আমরা কারাগারে গিয়ে বলেছিলাম। এমন একটি হাসপাতালে ওনাকে নিয়ে যেতে যেখানে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। সে অনুসারেই উচ্চ আদালত এই হাসপাতালে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আমাদের সবার সঙ্গে উনার এখনো দেখা হয়নি। বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে দুইজন আলাদা আলাদা সময় গিয়েছেন। বর্তমানে ওনার রোগের মেডিকেল হিস্ট্রির কাজ করছেন বাকি সদস্যরা। তবে ওনার যে রোগ রয়েছে সেটা রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক এর অন্তর্গত। তিনি মূল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, ওনার কোনও রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে না এনে ওষুধ দেওয়া যাবে না। তাছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। সেগুলোর রিপোর্ট এনে তখন ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এখন চিকিৎসার পূর্ব প্রস্তুতিতে আছি। সবকিছু ঠিক থাকলে মোটামুটি দুই সপ্তার মধ্যে মূল চিকিৎসা শুরু করতে পারবো।

এর আগে রোববার (০৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে গিয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী খালেদা জিয়ার আগের ও বর্তমান ফাইলপত্র পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করেন। এরপর সোমবার আবারও বোর্ড বসবে বলে জানান।

দীর্ঘ আলোচনার পর বেরিয়ে রোববার ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেন, আমরা দীর্ঘ এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ফাইল পর্যালোচনা করেছি। সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন রহমানও।

ডা. জলিল বলেন, এখন তো তার চিকিৎসাই চলছে। আগে থেকেই তিনি ওষুধ খাচ্ছেন। ফাইল পর্যালোচনা শেষে বেরিয়ে এসেছি, আগামীকাল (সোমবার, ৮ অক্টোবর) আবার বসবো।

শনিবার (৬ অক্টোবর) খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। তার আগে ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেদিন জানানো হয়, রোববার দুপুরে মেডিকেল বোর্ড খালেদাকে দেখে তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

অবশ্য ওই মেডিকেল বোর্ড খালেদার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুনের বিষয়ে জানতে চান। তখন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিএনপি প্রধানকে জানান, রোববার ডা. মামুনকে সঙ্গে রাখা হবে।

এরপর রোববার ডা. মামুন রহমানকে সঙ্গে নিয়েই মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদার চিকিৎসার ব্যাপারে কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কেবিনে আলোচনায় বসেন। সেখানে ছিলেন মেডিকেল বোর্ডের অপর চার সদস্য ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। সেই সময় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ফের জেলখানায় পাঠানো হয়।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00