ব্রেকিং নিউজঃ

কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের অপর নাম এই বাঁশের সাঁকো

কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের অপর নাম এই বাঁশের সাঁকো
bodybanner 00
মো.মোয়াজ্জেম হোসেন ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পাকা সড়কও সেতু না থাকায়  পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ও ডাবলুগজ্ঞ এবং মহীপুর তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষাকাল এলে এ দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করে। ভোটের সময় অনেক জনপ্রতিনিধিরা এ এলাকার দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সড়ক ও সেতু নির্মানে প্রতিশ্রতি দিলেও কখনোই সেই প্রতিশ্রতির বাস্তবায়ন নেই। তারিকাটা পয়েন্টে একটি ব্র্রিজ নির্মান না হওয়ায় ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী একটি সেতুর জন্য বিভিন্ন মহলের কাছে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২০০৫ সালে এলাকার লোকজনের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মান করা হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর সাঁকো মেরামত করা হয়নি। এলাকার লোকজন আলহাজ্ব মো. মাহবুর রহমান তালুকদার এমপির সাথে যোগা যোগ করলে তার উদ্দ্যেগে ২০১৪ সালে তিন টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয় । এলাকার লোকজন চাউল বিক্রি করে বাঁশ ক্রয় করে আবার বাঁশের সাঁকোটি নির্মান করে। এর পর সাঁকোর বাঁশ গুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। আবার এলাকার লোকজন বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদা তুলে সাঁকোটি মেরামত করে। বর্তমানে সাঁকোটির দরি ও বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । তিনটি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাএ ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। নদীর উওর ও দক্ষিন পাড়ে তারিকাটা ,নয়াকাটা, নয়াকাটা দিওর, বেীলতলী,বেীলতলীপাড়া,মুসলিমপাড়া, বেতকাটা,বেতকাটাপাড়া, সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, কাজিকান্দা, সুরডগি, বরকুতিয়া, খাপড়াভাঙ্গা,মনসাতলী, খোচাউপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় রাখাইন মন্দির মিশ্রিপাড়া ও লক্ষী এবং শিববাড়ীয়াবাজার যেতে পার হতে হয় এ বাঁশের সাঁকো। ফলে স্কুল ,মাদ্রাসা ও কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে এবং অসুস্থ ও গর্ববতী মায়েদের নিয়ে কষ্টের কোনো শেষ থাকেনা। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে ঘটেছে অহরহ দুর্ঘটনা। ।
সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে ,ধুলাসার ও ডাবলুগজ্ঞ এবং মহীপুর তিনটি ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত খাপড়াভাঙ্গা নদীতে রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। এ নদীর উওর পাড়ে নয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা দাখিল মাদ্রসা এবং দক্ষিন পাড়ে মিশ্রিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খানাবাদ ডিগ্রিকলেজ। শিববাড়ীয়া ও লক্ষীবাজার একটি প্রাচীন বড়হাট। সপ্তাহের একদিন শনিবার ও বৃহসপতিবার এ হাট বসে। দূরদূরন্ত থেকে কৃষিপন্য ও মালামাল মাথায় করে এলাকাবাসীকে এ সাঁকো পার হয়ে হাটে যেতে হয়। নয়াকাটা গ্রামের সাবেক মেম্বর মো.নোয়াবআলী হাওলাদার জানান,এলাকার রাস্তাঘাট পাকা ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ব্রিজ নির্মান  না হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এ এলাকায়। খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের ছ্ত্রা মো.ছোবহান খাঁন বলেন, ওই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন সাইকেল ও বই কাঁদে নিয়ে পারাপার খুবই কষ্ট হয়। অনেক গুলো বাঁশও দড়ি পচেঁ নষ্ট হয়ে গেছে যে কোনো সাইকেল ও বই নিয়ে ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে যেতে পারে। যদি সরকার এই জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মান করতে তাহলে এই লাঘব থেকে রক্ষা পেতাম। তিনটি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাএ ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। নদীর উওর ও দক্ষিন পাড়ে তারিকাটা ,নয়াকাটা, নয়াকাটা দিওর, বেীলতলী,বেীলতলীপাড়া,মুসলিমপাড়া, বেতকাটা,বেতকাটাপাড়া, সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, কাজিকান্দা, সুরডগি, বরকুতিয়া, খাপড়াভাঙ্গা,মনসাতলী, খোচাউপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে আজোকোনে পাকা সড়ক নির্মিত হয়নি। সড়ক ও সেত নির্মিত না হওয়ায় এ এলাকা গুলো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ এলাকায় কোনো বাস ট্রাক নছিমন করিমন আটো  রিকশা ভ্যান চলাচল করতে পারেনা। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পন্য বাইরে বিক্রি করতে নিতে পারে না। ফলে তারা ফসলের ন্যায্যমুল্য তেকে বঞ্চিত হন। এ এলাকার সন্তান সম্ভাবা মা, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে পার হতে হয় চড়াই উৎরাই। কখনো রাস্তার মধ্যেই বেগ হয়ে সন্তান হয় ও মারা যায় রোগী।
এ ব্যাপারে মনসাতলী  গ্রামের জামাল মৃধা জানান, উপজেলার এ তিনটি ইউনিয়ন একেবারেই অবহেলিত। রাস্তাঘাট না থকায় এ এলাকায় আজো উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ভোট এলে নেতারা নদীতে সেতু নির্মানের স্বপ্ন  দেখান। ভোট চলে গেলে তারা আর তা মনে রাখেন না।
 কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব আ: মোতালেব তালুকদার বলেন, তিনি এটি পর্যবেক্ষন করেছেন এবং এখানে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে একটি ব্রিজ করার প্রস্তাব উপজেলা পরিষদের পরবর্তি প্রজেক্টে দিয়ে দিয়েছেন ।
Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00