কতদিন হচ্ছে খালেদার কারাবাস?

কতদিন হচ্ছে খালেদার কারাবাস?
bodybanner 00

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ এ মামলা বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরনো ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসে মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরই তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। দণ্ড বাতিল এবং জামিনের জন্য আবেদন করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আগামী রোববারই আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

তবে রায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার যে আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না, সেটি অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও ভালো করে জানেন, আপিলের প্রক্রিয়া নির্ভর করছে রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর। আর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ঠিক পরের দিনই ৬৩২ পৃষ্ঠা রায়ের এই কপি কীভাবে পাবেন, তা তারাই ভালো জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তারা আশা করছেন রোববারই রায়ের সার্টিফাইট কপি হাতে পাবেন। এরপর রাতেই কাগজপত্র তৈরি করে সোমবার আপিল করবেন।

তবে তিনি আগামী সপ্তাহে জামিনের বিষয়ে আশানুরূপ ফলাফল প্রত্যাশা করছেন না।

প্রবীণ আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ভিন্ন এক আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রায়ের সার্টফাইট কপি পেতে একদিনও লাগে, আবার এক মাসও লাগে। এদেশে তো সব কিছু নির্ভর করে সরকারের মর্জির ওপর।’

তিনি বলেন, ‘মামলাটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন হলেও যা ঘটে গেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক বড়। এখন দেখার বিষয়, সরকার কিভাবে এটিকে ডিল করে?’

সপ্তাহের শুরুতে রায়ের সার্টিফাইট কপি না পেলে আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তির সম্ভাবনা কম বলেও মনে করেন জমিরউদ্দিন সরকার।

তবে তিনি এও জানান, রোববারই সার্টিফাইড কপি পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আপিল আবেদন পুটআপ হবে। উচ্চ আদালত শুনানি গ্রহণ করে জামিন মঞ্জুর করলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হতে ২৩৬ কার্যদিবস লেগেছে। ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। শেষের দু’জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00