এমপি হতে চান ছাত্রলীগের যেসব সাবেক নেতা

এমপি হতে চান ছাত্রলীগের যেসব সাবেক নেতা
bodybanner 00

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এরইমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতা। সংগঠনটির অনেক নেতাই বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও এদের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পাননি এবার তারাই দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ আশা এবং নিজেদের জনসমর্থনের ওপর বিশ্বাস রেখে এরইমধ্যে জনসংযোগও শুরু করেছেন অনেকে। যেসব সাংসদ বিতর্কিত হয়েছেন কিংবা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তাদের জায়গায় এবার তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা।

আগামী মাসের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা শোনা গেলেও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপন গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ভোটকেন্দ্রের এজেন্টও ঠিক করতে শুরু করেছেন। এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগও করছেন তিনি। একাধিক কর্মী সমাবেশও করেছেন এরইমধ্যে। তার নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, রিপন দলের উচ্চ মহল থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন। তবে এই আসনের বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার অনুসারীরাও জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নেতকর্মীরাও দাবি করেছেন, মনোনয়ন এবারও তিনিই পাচ্ছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন রিপন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একে এম এনামুল হক শামীম একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শরীয়তপুর-২ আসন (নড়িয়া-সখীপুর) থেকে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে অনেক আগে থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় পদ্মার ভাঙন চরম পর্যায়ে থাকায় প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী হয়েছে তিনি। এলাকায় ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ভাঙন কবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা শুনছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার কোনো সিগন্যালের কথা তিনি প্রকাশ্যে না জানালেও এলাকার অনেক নেতাই ধারণা করছেন; আগামী নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনিই।

বরিশাল-২ আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেট পাওয়ার আশা করছেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহে আলম। এই ভাবনা নিয়ে এলাকায় প্রচারণাও চালাচ্ছেন তিনি। নির্বাচনে প্রথমবার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নেতাদের যতটা শক্ত প্রচারণা দেখা যায় এলাকায় তেমন চিত্র পাওয়া যায়নি তার ক্ষেত্রে। তবে মনোনয়ন পাওয়ার আশা নিয়েই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের আসন চট্টগ্রাম-৬। তিনিও বেশ জোরালোভাবেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। নিজের অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিতভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। এই আসন থেকে তিনি আদৌ মনোনয়ন পাবেন কিনা কিংবা পেলেই জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার মতো জনসমর্থন তার রয়েছে কিনা সেই কথা বিবেচনা করে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন কিনা; অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যেই এমন প্রশ্ন থাকলেও চূড়ান্ত তালিকার আগে পর্যন্ত থামছেন না তিনি।

দ্বীপ এলাকা ভোলা-২ (বোরহানউদ্দীন-দৌলতখান) আসনে এবার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়তে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ওমর শরীফ। এজন্য এরইমধ্যে প্রচারণাও শুরু করেছেন তিনি। নিয়মিত এলাকায় জনসংযোগ চালানো ছাড়াও অনুজ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে একাধিক পন্থা অবলম্বন করছেন তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক রেজাউল করিম টিটন এবার লড়তে চান (ঝিনাইদহ-৩) আসন থেকে। এলাকায় নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি নেতাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। এই তরুণ নেতা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সিনিয়র নেতাদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি তার অনুসারীদের।

ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু দিনাজপুর-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এজন্য শুরু করেছেন জোর প্রচারণাও। নিয়মিত জনসংযোগ ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকও করছেন। তাদের সঙ্গে বেশ সখ্যতাও রয়েছে তার। এছাড়া এলাকার তরুণ ভোটারসহ সাধারণ জনগণের মধ্যেও তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা সময় নিউজকে বলেন, তাদের দল যেহেতু পরপর দুইবার ক্ষমতায় রয়েছে। তাই এবার ভোটারদের মধ্যে কিছুটা চমক সৃষ্টি করতে চান তারা। সাধারণের মাঝে বিতর্কিত হয়েছেন এমন নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণদের সামনে নিয়ে আসার কথা ভাবছেন তারা। সেক্ষেত্রে এলাকায় জনপ্রিয় ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এমন প্রার্থিতা প্রত্যাশীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নয়, প্রধান বিবেচ্য হবে এলাকায় জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল নেতাদের সুপারিশ।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনেক তরুণ নেতারই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নানা কারণে বাদ পড়বেন এমন সংসদ সদস্যদের আসনে তরুণদের মূল্যায়ন করা হবে।

আরও যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এলাকায় জনসংযোগ চালাচ্ছেন তারা হলেন:

সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের-দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন(ঢাকা-৮), কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪), ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন (পটুয়াখালি-১), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫),বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩),বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না (পিরোজপুর-২)।

ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-২), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা (পিরোজপুর-১), সাবেক ছাত্রলীগ  নেতা পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল (পটুয়াখালী-২), সাবেক ছাত্রনেতা ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান (পিরোজপুর-৩), মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, (ফেনী-৩)।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00