ঈদে বাড়ি ফিরতে ট্রেনেই আস্থা | দৈনিক আগামীর সময়

ঈদে বাড়ি ফিরতে ট্রেনেই আস্থা | দৈনিক আগামীর সময়
bodybanner 00
ঈদে বাড়ি যেতে ও পরে কর্মস্থলে ফিরতে বিভিন্ন যানবাহনের মধ্যে ট্রেনে ভ্রমণেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন যাত্রীরা। সড়ক-মহাসড়কে যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও ট্রেনে এ ধরনের সমস্যা নেই। তাই যে করেই হোক একবার ট্রেনে উঠতে পারলে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে। এসব বিবেচনায় ঈদে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণে সাধারণ মানুষের ট্রেনের প্রতি আস্থা। অন্যদিকে মানুষজনের আগ্রহ বাড়ায় সরকারও রেলপথ ও রেলের উন্নয়নে নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।
এবার ঈদযাত্রায় রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে খুব একটা ভিড় দেখা যায়নি। অন্যদিকে ট্রেনের টিকিটের জন্য ছিল বিশাল লাইন। আর সেই কাঙ্খিত টিকিট পেয়ে অনেককে ‘সোনার হরিণ’ পাওয়ার মতোই আনন্দ করতে দেখা গেছে। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন গতকাল রবিবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের অনেকে ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। কেউ কেউ সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ ইঞ্জিনের সামনে, আবার দরজার হাতলে ঝুলেও বাড়ির পথ ধরেছেন অনেকে।
প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, ট্রেনে  প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৈনিক ৩ লাখ যাত্রী চলাচল করছে। রাজধানীর কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যাচ্ছে ৬৮টি ট্রেন। এরমধ্যে চারটি রয়েছে বিশেষ ট্রেন।
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, রেলওয়ের উন্নয়নের কারণেই দিন দিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। রেলকে জনপ্রিয় করার মূল অবদান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী রেলের ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহ করে দিয়েছেন। রেলপথ ও ট্রেনের সংখ্যা আরো বাড়ানো হচ্ছে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, গত পাঁচ বছরে আমরা ১০০টি ট্রেন বাড়াতে পেরেছি। রেল ভ্রমণ জনপ্রিয় হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা নিরাপদে যাত্রীদের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে রেলের পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিবছরই যাত্রীদের জন্য কিছু না কিছু সার্ভিসের মান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সে কারণেই জনপ্রিয় উঠছে ট্রেন।
ট্রেনের সিউিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া কিছু ট্রেনে বিলম্ব হয়েছে। যাত্রীর চাপের কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। আমি আজ (রবিবার) কমলাপুর স্টেশনে ছিলাম। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে তেমন কোন অভিযোগ পাইনি।
সংশিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন রেলওয়ে সেক্টর অবহেলিত ছিল। অথচ বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে গণপরিবহণ হিসেবে রেলওয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নিরাপদ, সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এদেশে রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিক।  এ লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। রেলওয়েকে আধুনিক ও যুগোপযোগী  যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার  ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। বর্তমানে সারা দেশে রেলপত্র ২ হাজার ৮৮২শ কিলোমিটার।  রেলপথ ও রেলের উন্নয়নের সরকারের বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে।
Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00