ব্রেকিং নিউজঃ

ইয়াবার বড়ো ডিলার পুলিশের সোর্স!

ইয়াবার বড়ো ডিলার পুলিশের সোর্স!
bodybanner 00

সারাদেশেই ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এই মরণ নেশার ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের তালিকাও জেলাভিত্তিক প্রস্তুত করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে কতিপয় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সরা জড়িত। শুধু তাই নয়, অনেক এলাকায় কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্সরা ইয়াবার ডিলারও বটে।

Brand Milk

সম্প্রতি পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে অভিযোগ করেছেন, মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কতিপয় সদস্য ও কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। এরপর মাদক বাণিজ্যের মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষকদের গডফাদারদেরও তালিকা করা হচ্ছে। আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত তাদের নামও ওই তালিকায় রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপ-পরিচালক জানান, এদের তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে পুলিশের সোর্স আর কোন কোন ব্যক্তি ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা করেন, তা আমাদের জানা আছে। আর সোর্সরা তো অলয়েজ ক্রিমিনাল। তাদের হ্যান্ডলিংয়ের পদ্ধতি মোতাবেক ব্যবহার করতে হয়। এখন কে কীভাবে তাদের ব্যবহার করছে সেটা দেখার বিষয় বলে জানান তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সদের তালিকা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, তাদের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের নাম, পিতার নাম, তাদের রাজনৈতিক দলীয় ও প্রশাসনিক পরিচয় ওই তালিকায় রাখা হচ্ছে। সারাদেশের ৬৪ জেলায় পুলিশের ইউনিটপ্রধানরা এই তালিকা তৈরি করে নিজ ইউনিটের কাছে সংরক্ষণ ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক গডফাদারদের তালিকা বিচ্ছিন্নভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কাছে রয়েছে। ওই তালিকার ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতি সপ্তাহে দুবার অভিযান চালাচ্ছে। জানা গেছে, সারাদেশের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ী বা ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই মাদক আন্ডারওয়ার্ল্ডে তারা ডন হিসেবে পরিচিত। আবার তারা গডফাদার হিসাবেও পরিচিত। তাদের হাতেই দেশের মাদক বা ইয়াবা বাণিজ্যের সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ। অনেকে সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা। ওয়ার্ড, থানা বা মহানগর নেতা থেকে খোদ সংসদ সদস্য থেকে সিআইপি খেতাব পাওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে সরকারী কর্মকর্তারাও মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাতেনাতে মাদক উদ্ধার করা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারার সীমাবদ্ধতায় মাদক ব্যবসায়ী বা ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। পুলিশপ্রধান হিসেবে ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দেওয়ার পর সারাদেশে পুলিশের ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে সার্ভিলেন্স টিম নিয়োগ দিয়েছেন। এখন আবার মাদক ব্যবসা বা ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত পুলিশ, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, গডফাদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই তালিকা তৈরি হলে দেশব্যাপী মাদক বা ইয়াবাবিরোধী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হবে, যা পুলিশের নতুন আইজির জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ বা কঠিন পরীক্ষা। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন নুতন নুতন পদ্ধতি ব্যবহার করে মাদকপাচারে। গডফাদাররা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। তারা পরিবারের বাইরে একাধিক স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় ইয়াবা পাইকারী দরে বিক্রি করছেন বাদল ওরফে সুকানি বাদল। তিনি লালবাগের পুষ্পশা পুকুরপাড়, বাঁশপট্টি, বালুরঘাট, কয়লাঘাট, শহিদনগর ২ নম্বর গলি, শ্মশানঘাট, আইডিয়াল স্কুল, আনোয়ার হোসের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, রসুলপুর, আজিমপুর বটতলা, বালুরঘাট পাইপ কারখানা, চান্দা ব্যাটারির গলি, নবাবগঞ্জ পার্ক, শহিদনগর ট্রাকস্ট্যান্ড, হক্কুল এবাদ ব্রিজসহ প্রায় ১০ স্পটে খুচরা ইয়াবা বিক্রি করে সুকানি বাদল।

তার কয়েকজন পুলিশ সোর্স রয়েছে। তার বউ রয়েছে একাধিক। সাথী ও নাদিরা নামের দুই স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজনও মাদক ব্যবসা করেন। পুরান ঢাকার এক সূত্র জানায়, লালবাগ থানা পুলিশের সোর্স ফরমা মাইকেলও বেতনভুক ইয়াবা সরবরাহকারী। ওই ফরমা মাইকেলেরও রয়েছে ৫ জন বেতনভুক সোর্স। সম্প্রতি শাহীন ওরফে আজব শাহীনকে শহীদনগর ১নম্বর গলির বউবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি চোরাই মোটরসাইকেল ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। লালবাগ থানা পুলিশ মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে অন্য মামলায় কোর্টে পাঠায়। পর দিন আদালত থেকে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। এর আগে মাদক ব্যবসায়ী বাদল ওরফে সুকানি বাদল ও তার নিযুক্ত প্রতিনিধি যুবদলকর্মী রাসেল প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগে আরও জানা যায়, এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের মাদক পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহীদনগর বেড়িবাঁধের ওপর একটি ক্লাব বানিয়ে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল বিক্রি করে। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের এখন ইয়াবা সরবরাহ করছে সুকানি বাদল। আর তাকে সহযোগিতা করছে টাকসিন, সুমন, শাহিন, আনোয়ার তালুকদার, লেঙড়া হানিফ। শহীদনগর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন বি-কম-এর ভাগিনা রহমান ও সাজু মাদকের পাইকারী ব্যবসা করে। রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যামামলা রয়েছে। সে বিএনপির ক্যাডার ছিল। কাউন্সিলর অফিসের দোতলায় লালবাগ থানার সাবেক দারোগা বরকত প্রকাশ্যেই ইয়াবা সরবরাহ করে। একাধিক অভিযোগ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার পরও তার মাদক ব্যবসা চলছেই। লালবাগ থানা পুলিশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের পর এর সত্যতা পেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি গোয়েন্দা কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর চট্টগ্রামের এক দম্পতির ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ১৬ লাখ টাকাসহ ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তিনি আদালত থেকে জামিনে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।এছাড়া, রাজধানীর খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মনিরের বিরুদ্ধে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ৩মে সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানের একটি ওয়ার হাউজ থেকে প্রাইভেটকারে বিদেশি মদের একটি চালান বের হচ্ছে এমন তথ্য ছিল এসআই মনিরের কাছে। ফলে ওই গাড়ি ধরতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন মনির। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় গুলশান-১ নম্বর চত্বরে একটি এক্স-করলা প্রাইভেটকার নিয়ে আরেকটি এক্স-করলা প্রাইভেটকারকে বেরিকেড দেন তিনি। এ সময় মদসহ গাড়িচালক মাহবুবকে আটক করা হয়। এরপর গাড়িসহ মাহবুবকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নিয়ে বলা হয় বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনার কারণে তাকে আটক করা হয়েছে। ফলে থানার কেউই বিষয়টি জানতে পারেননি। পরে মাদক ব্যবসায়ী মাহবুবের লোকজনের সাথে দফায় দফায় মীমাংসার জন্য আলোচনা করা হয়। প্রথমে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন মনির। পরে তিন লাখ ২০ হাজার টাকায় দফারফা হয়। জাহাঙ্গীর নামে এক লোক বেলা তিনটায় টাকা দিয়ে মদ ও গাড়িসহ ছাড়িয়ে আনেন মাহবুবকে। গাড়িতে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার বিদেশি মদ ছিলো বলে খিলগাঁও থানার একাধিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে খিলগাঁও থানার এসআই মনিরের সাথে যোগাযোগ করতে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার অভিযোগে রাজশাহীর মোহনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণিকে ক্লোজড করা হয়েছে। এসআই ওসমান গণির বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচারও অভিযোগ উঠেছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। পবা এলাকা থেকে র‌্যাবের একটি দল পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী হেলালকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ আটক করে। এ ঘটনার পর হেলাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মোহনপুর থানার এসআই ওসমান গণি তাকে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতা করেন। এসআই ওসমান গণি পবা থানায় থাকার সময় তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে মোহনপুর থানায় বদলির পরও এসআই গণি হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মাদক কেনাবেচায় সহযোগিতা করেন। তাছাড়া, গত বছর রাজধানীতে ইয়াবাসহ এক পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমান (৩৫) ও তার সহযোগী রেজাউল ইসলাম (৩১)কে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ৩২০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার ও জব্দ করা হয় ইয়াবা বহনে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল। কনস্টেবল সাইদুর ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি-পেট্রল)-এর গাড়িচালক ছিলেন। সাইদুর ও রেজাউলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন মতিঝিল-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। পরে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃতদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবদ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজধানীতে প্রায় ৩০০ মাদক ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রকের নাম অধিদপ্তর পেয়েছে। এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মহাখালী, বারিধারা ও গুলশানে ইয়াবার বড় ব্যবসায়ী মাসুদ। তার নেতৃত্বে এসব এলাকায় ইয়াবা বেচাকেনা হচ্ছে। পুরান ঢাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নাম আছে রন্টির। ভাটারা নতুন বাজারের আনোয়ারা বেগম ওরফে আনু, তুরাগের রেজাউলসহ আরও ৩০০ জনের নাম রয়েছে। কক্সবাজার থেকে যারা ইয়াবা ঢাকায় এনে সরবরাহ করে তাদের মধ্যে রয়েছে উখিয়ার পলাশ বড়ুয়া, টেকনাফের তৈয়ব, আইয়ুব, ইলিয়াস, রেজাউল করিম, এনামুল হক, শাহাব উদ্দিন শাপু, কক্সবাজার সদরের রমজান আলী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কুতুব উদ্দিন রনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর ৪৯ থানার মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশই পুলিশের সোর্স। এরা মাঝেমধ্যে বিরোধী গ্রুপের দু-চারজনকে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের ব্যবসা নিরাপদ রাখে। রাজধানীর মতিঝিল, কামরাঙ্গীর চর, মিরপুর বিহারি পল্লী, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, লালবাগ, চকবাজার, খিলগাঁও, সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সোর্সরা সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত। এরা মাদক বহনে ব্যবহার করে পুলিশের গাড়ি আর নিজেদের সোর্স হিসেবেই পরিচয় দেয়। লালবাগ থানার অসীমের সহযোগীরা হাজারীবাগ এলাকার সুইপার কলোনিতে মাদক ব্যবসা চালায়। লালবাগ এলাকায় চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীর স্ত্রীর রয়েছে বিশাল মাদক ব্যবসা। ওই মহিলাও স্থানীয় থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। ধানমন্ডি, কাঁটাবন, গ্রিন রোড ও ফার্মগেট এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে কয়েকজন নারী ও পুরুষ। খিলগাঁও থানা পুলিশের সোর্স ওহাব গোড়ান এলাকার ছাপড়া মসজিদের পাশে আদর্শবাগের গলিতে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসা চালায়। সবুজবাগের ওহাব কলোনিতে পাওয়া যায় না এমন কোনো মাদক নেই। একটি বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে ওহাব কলোনির মাদক ব্যবসা। লালবাগ থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী সাহা বর্তমানে মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানার সোর্স বলে নিজেকে পরিচয় দেয়। মিরপুরে মাদক বেচাকেনা হয় শাহআলী থানা এলাকায়। এদের বেশিরভাগই পুলিশ সোর্স। শাহআলী ও দারুসসালাম থানা পুলিশের এক সোর্সের স্ত্রীও বড়ো ব্যবসায়ী। নাজু নামের ওই মাদকসম্রাজ্ঞী মিরপুরের দিয়াবাড়ী বটতলা এলাকায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছে। দারুসসালাম থানায় তার একটি মাইক্রোবাস চলছে ভাড়ায়।

এছাড়া, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকায় জামান মল্লিক, সারোয়ার, তপন, বিমান, জয়া, সেন্টু, দেলু, জামান, জসিম, চোরা লিটন, সুজন, মাসুদ, সাব্বির, বাবলু, মিল্টন, লিটন, শম্ভু, মনোয়ারা, সেলিম, কানাই, শামসুদ্দিন সামসু, জাহাঙ্গীর, রিপন, শাকিল, বাপ্পী, কানাই ঘোষ, শফিক, মুজিবর, নবাবপুর ও ঠাটারিবাজারে ইয়াবা ঝিলু, তার মেয়ে সিসিলি, রনি, বাবলু, সায়দার, শংকর, ফেনসি রমজান, কানা জাহাঙ্গীর, জসিম, চান্দু, শাকিল, সুজন, পুরি মাসুদ, সাব্বির কুমিল্লা রফিক, চাঁদপুইরা সফিক, লালবাগ, হাজারীবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় বিরানী মামুন, ফারুক, আক্তার, টুন্ডা, ইব্রাহিম, জাফর, লিটন, বখতিয়ার, জসিম, রনি, শাহজাহান, তৌহিদ. দয়াগঞ্জ, গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর, ওয়াসিম, রিপন, বিল্লাল, আবদুর রব, আলমগীর, সিডি মিন্টু, সোহেল, আরিফ, আশরাফ, বাসেত, আজমল, কদমতলী, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় লালবাবু, বাবু সেলিম, জাকির মাঝি ওরফে কাইল্লা জাকির, ইয়াবা রনি, শিবলী ওরফে শিবলিস, সোহাগ, আমিরুল, সোহেল, শিপন, জাহাঙ্গীর, ভাগিনা রবিন, নজরুল, লালু, রহিম, আলী, বুড়ি, শাহে আলম, রহিমা, আলতাফ, ভাইয়া সেলিম, মাসুম, সুমন, শাহীন, সালাম, ফর্মা সিরাজসহ অনেকে করছে ইয়াবার ব্যবসা। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-উপ-অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা আসার সংবাদকে জানান, আমাদের কাছে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা পুলিশের সোর্সদের তালিকা নেই। তবে কারা কারা ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা করেন, তা আমরা জানি, তাদের চিনি। তিনি আরও বলেন, সোর্সরা তো অলয়েজ ক্রিমিনাল। তাদের ব্যবহার করার পদ্ধতি আমাদের ট্রেনিংয়ে বলা হয়। এখনে তাদের কে কীভাবে ব্যবহার করবেন সেটা তাদের ব্যাপার। সোর্স সব সময়ই ক্রিমিনাল বলে জানান তিনি

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00