brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

ইসরাইলের জন্য বাংলাদেশের কাছে নানা তদবির!

ইসরাইলের জন্য বাংলাদেশের কাছে নানা তদবির!
epsoon tv 1

বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতে নিলেই আপনি দেখতে পাবেন, ইসরাইল ছাড়া যে কোনো দেশের জন্য এটা প্রযোজ্য। অথাৎ স্পষ্ট করে এ দেশের নাগরিকদের জানিয়ে দেয়া হয়, এই একটি দেশ আছে পৃথিবীতে যাদের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্ক রাখা চলবে না।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু মুসলিম দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক নেই ইসরাইলের। তবে পাসোপোর্টে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা লিখে রাখা দেশ শুধু বাংলাদেশই। শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বজ্রকণ্ঠ বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইল কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করায়, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে কি ইসরাইলের সম্পর্ক স্থাপনের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে?

সম্প্রতি গ্লোবাল ডিফেন্স করপো নামে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। ‘টাইম হ্যাজ কাম ফর বাংলাদেশ রিকগনাইজেস ইসরাইল আফটার ইউএই অ্যান্ড বাহরাইন’ শিরোনামে লেখায় ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপনের বেশ কিছু সম্ভাবত্য যাচাই করা হয়। এ লেখায় দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়।

এক, দেশ স্বাধীনের পরপরই যে কটি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, তাদের মধ্যে ইসরাইল শুরুতেই ছিল।

দুই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা থাকায় ইসরাইল হয়তো এ সুযোগটা নেয়ার চেষ্টা করবে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আপত্তি থাকলেও ওআইসি ও আরব দেশের অনেকে এখন ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরোক্কো তাদের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করেছে। মিশর ১৯৬৯ সালে এবং জর্দান ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সাথে কুটনীতিক সম্পর্ক তৈরি করে। চলতি বছরের ১৩ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর ১১ সেপ্টেম্বর বাহরাইন তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এ সম্পর্ক তৈরি হয়। আভাস পাওয়া গেছে, আরও বেশ কটি আরব দেশ এ স্রোতে গা ভাসাবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আগ্রহ আছে অনেকের। বিশেষ করে চলতি মাসেই মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করায় ট্রাম্পের চেষ্টার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। টেলিফোনের বিষয় হিসেবে ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্যাটেজি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বলা হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো বার্তা থাকতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। বাংলাদেশসহ বেশ কটি আরব দেশকে দলভুক্ত করতে মার্কিন চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

তবে অনলাইনটি তাদের পর্যবেক্ষণে বলছে, এর আগেও প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ সাধারণত এ ধরনের চাপের কাছ নতি স্বীকার করে না। এ দেশের জনগণের মধ্যে ইসরাইল বিদ্বেষের বিষয়টি এতই প্রকট যে, অন্য কোনো ইস্যুতে একমত হতে না পারলেও ইসরাইল ইস্যুতে এদেশের সব রাজনৈতিক দলই একমত। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতে ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে তার সখ্য এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার বিশেষ দরদের কথা বিশ্বের অনেকেই জানে। বরাবরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে ফিলিস্তিনের পক্ষে তাই সুস্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তবে সম্পর্ক স্থাপনের কারণ হিসেবে তারা বেশ কটি সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। এ দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে কারো সাথে শত্রুতা তৈরি না করার বিষয়টিকে তারা সামনে রেখেছে। ১৯৭২ সালেই ইসরাইল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের সব সময় পজিটিভ অবস্থানে আছে বলেও মনে করে গ্লোবাল ডিফেন্স করপো।

তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান বাংলাদেশের। চলতি সপ্তাহে তুরস্ক সফরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

epsoon tv 1

Related posts

body banner camera