আলোচিত মোবারক হত্যা লৌহজংয়ের কাজির পাগলায় চুরির চেষ্টা  প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হুমকি ॥ স্বাক্ষীদের দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি

আলোচিত মোবারক হত্যা  লৌহজংয়ের কাজির পাগলায় চুরির চেষ্টা  প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হুমকি ॥ স্বাক্ষীদের দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি
bodybanner 00
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজংয়ে প্রকাশ্যে খুন হওয়া কাজির পাগলা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন খানের বাসায় চুরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রহস্যে ঘেরা এই চুরির চেষ্টা নিয়ে এলাকাবাসীর কাছে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বলেছে, বার বার খালি ঘরে চোর আসলেও কিছু না নিয়ে চলে যায়। এটি আসলে চুরির ঘটনা না। এটি মোবারকের খুনিদের কাজ। কিছু দিন পরেই মোবারকের খুনের মামলার সাক্ষীদের সাক্ষী দান শুরু হবে আদালতে। তাই স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতেই এমনটি করা হচ্ছে। হুমকি দেয়া হচ্ছে প্রাণ নাশের।
লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডল ইউনিয়নের কাজির পাগলা গ্রামে গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিহত মোবারক হোসেন খানের বাসায় চুরির চেষ্টা করা হয়। তথ্য নিয়ে যানা গেছে, শনিবার রাতে বাসার ছাঁদের উপরের চিলা কোঠার দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে একটি চোরের দল। কিন্তু চোর কিছুই নেননি। তাদের দুজোড়া জুতা এবং ছোট সাবল রেখে গিয়েছে। কিন্তু কেন চোর রাতে এসে ঘরের ভিতর তালা ভাঙল আর কেনোই বা কিছু না নিয়ে চলে গেলো-এমন প্রশ্ন সবার কাছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় হুমকির মুখে আছে তারা। রাস্তা দিয়ে চলা ফেরার সময় ইশারায় ইঙ্গিতে তাদের মৃত্যুর হুমকি দিয়েই যাচ্ছে স্থানীয় কিছু লোক। কেউ কেউ ইশারায় গলা কাঁটার কথা বলে হুমকি দিয়েছে এমনটি জানিয়েছেন তারা।
নিহত মোবারক হোসেন খানের মেয়ে ওয়াহিদা খান দিয়া জানায়, আমার বাবাকে বিগত ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর আমাদের বাসায় প্রকাশ্যে নিমর্মভাবে গুলি করে ও কুঁপিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু কোন বিচার পাইনি এখনো। আমরা প্রতিনিয়িত মৃত্যুর হুমকি পেয়েই যাচ্ছি। ঘরের সাথে রাস্তা দিয়ে চলা ফেরার সময় ইশারায় ইঙ্গিতে তাদের মৃত্যুর হুমকি দিয়েই যাচ্ছে স্থানীয় খুনিরা। কেউ কেউ ইশারায় গলা কাঁটার কথা বলে হুমকি দিচ্ছে। আবার আপোষ মিমাংশা করে মামলা তামাদি করার প্রস্তাব দিচ্ছে খুনিরা। তাদের কথা না শুনলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি ধমকি দিয়েই যাচ্ছে। বাবার হত্যা মামলাটি এখন জেলা অতিরিক্ত জজ কোর্টে রয়েছে। বিচার কাজ চলছে। ইতিপূর্বে খুনীদের হুমকিতে কেউ স্বাক্ষী দিতে আদালতে যায়নি। আর এখন যখন আবার স্বাক্ষী দেবার সময় হয়েছে, তখন খুনীরা নানাভাবে স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। যাতে স্বাক্ষীর অভাবে বাবার মামলাটি শেষ হয়ে যায়। আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পাবোনা ? খুনিরা প্রকাশ্যে খুন করে পার পেয়ে যাবে ?
গতবছর ফেব্রুয়ারীতে আমাদের বাসার দরজা, তালা ভেঙ্গে ভিতরে এসে কিছুই নেয়নি। ঠিক তেমনই গত শনিবার রাতে একই ঘটনা ঘটে আমাদের বাসায়। চুরির কোন প্রশ্নই উঠে না। কেননা আমাদের আর্থিক অবস্থা এখন তেমন ভালো না। বাসায় পুরুষ মানুষ বলতে কেউ নেই। আমি আমার পড়া শোনার টাকা টিউশন দিয়ে চালাই। বাবা যখন ছিলো আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো। আমাদের বাসায় চুরি করার মত কিছুই নেই। যদি চুরি করতেই আসতো তাহলে কেনোই বা কিছু না নিয়ে চলে গেল চোর। আমার মা অসুস্থ তাই ৭ দিন ধরে আমরা সবাই ঢাকাতে। পুরো বাসা খালি ছিলো।
দিয়া জানায় এ ব্যাপারে তিনি কোন জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করেনি। কারণ এতিপূর্বে জিডি করে তিনি কোন প্রতিকার পাননি। তার পিতার খুনের পূর্বে হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করেও রক্ষা হয়নি তার পিতার।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00